Sylhet Today 24 PRINT

ওয়াশিকুর হত্যা: আনসারুল্লাহর সাইলেন্ট কিলিং, গোয়েন্দাদের ধারণা

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, আনসারুল্লাহ সাইলেন্ট (নীরব) কিলিং বেছে নিয়েছে। এর আগেও ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অনেক ব্লগারকে হত্যা করা হয়। তাদের মধ্যে রাজীব হত্যা মামলার আসামিরা গ্রেপ্তার হলেও অন্যদের ওপর হামলাকারীরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তবে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে।

নিউজ ডেস্ক  |  ০১ এপ্রিল, ২০১৫

ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট ওয়াশিকুর রহমান বাবুকে নৃশংসভাবে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মাসুম আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য বলে গোয়েন্দারা ধারণা করছেন।

গোয়েন্দাদের ধারণা হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেওয়া তাহের প্রশিক্ষিত ছিল বলে পালিয়ে যেতে সমর্থ হয় এবং অপর দুই খুনি মাদ্রাসাছাত্র জিকরুল্লাহ ও আরিফুল ইসলাম ধরা পড়ে। তদন্তকারী কর্মকর্তা ১০ দিনের রিমাণ্ড চাইলে আট দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

আটক খুনি জিকরুল্লাহ নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা'আতুল মুজাহিদীনের (জেএমবি) সদস্য বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। ২০১২ সালে নরসিংদীতে বিস্ফোরকসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর এক মাস হাজত খেটে জামিনে বেরিয়ে পলাতক ছিল সে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) জনসংযোগ দপ্তরে গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, 'মতাদর্শিক বিরোধের জের ধরে ব্লগার বাবুকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে জিকরুল্লাহ ও আরিফুল ইসলাম। এদের মধ্যে একজন জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের আট দিনের রিমান্ডে নিয়ে এ বিষয়ে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জঙ্গি নিয়ন্ত্রণে জনগণের সহযোগিতা চাচ্ছি আমরা।'

গোয়েন্দা সূত্রের ধারণা- আনসারুল্লাহ সাইলেন্ট (নীরব) কিলিং বেছে নিয়েছে। এর আগেও ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অনেক ব্লগারকে হত্যা করা হয়। তাদের মধ্যে রাজীব হত্যা মামলার আসামিরা গ্রেপ্তার হলেও অন্যদের ওপর হামলাকারীরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তবে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে।

বাবু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান গতকাল জিকরুল্লাহ ও আরিফুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চান। শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম মো. ইউনূস খান তাদের আট দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, 'ফেসবুক ও ব্লগসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম নিয়ে লেখালেখি করার কারণেই বাবুকে হত্যা করা হয়েছে বলে আসামিরা স্বীকার করেছে। হত্যার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় জনতার সহায়তায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের কাছ থেকে রক্তমাখা দুটি ও ব্যাগ থেকে অব্যবহৃত একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত সহযোগী অন্য আসামি আবু তাহের পালিয়ে যায়।

আর মূল পরিকল্পনাকারী মাসুম চট্টগ্রাম থেকে ডেকে এনে ওয়াশিকুরকে হত্যা করতে পাঠায় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি সরবরাহ করে।'

বিভিন্ন সূত্র মতে, মুক্তচিন্তার লেখক ও ব্লগারদের ওপর এর আগে যেভাবে হামলা করা হয়েছে ওয়াশিকুর বাবুর ওপর একই পদ্ধতিতে হামলা হয়েছে।

গোয়েন্দারা এসব ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, বাবুকে যেভাবে খুনিরা ধারালো চাপাতি দিয়ে মাথা ও মুখমণ্ডল ক্ষতবিক্ষত করে, অন্যদের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

একই পৈশাচিক পন্থায় হামলা হয়েছিল অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ, ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার, এ কে এম শফিউল ইসলাম ও ড. অভিজিৎ রায়ের ওপর। প্রায় অভিন্ন হামলার শিকার হয়ে প্রাণে বেঁচে গেছেন ব্লগার আসিফসহ কয়েকজন।

গোয়েন্দাদের দাবি, এ ধরনের হামলায় জড়িতরা 'স্লিপার সেল'-এর সদস্য। তারা টার্গেট (বাছাই) করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে হত্যার পরিকল্পনা করে। কিলিং মিশনে অংশ নেওয়ার আগ পর্যন্ত স্লিপার সেলের সদস্যরা একে অন্যের কাছে অচেনা থাকে।

সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার বেগুনবাড়ীর বাসা থেকে বেরিয়ে ওয়াশিকুর রহমান বাবু মতিঝিলে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে জঙ্গি সন্ত্রাসীদের চাপাতির আঘাতে খুন হন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.