Sylhet Today 24 PRINT

নগরে ‘রক্তবন্যা’, স্বাস্থ্যঝুঁকি

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

ছবি: ফেসবুক

নিয়ম না মেনে নির্ধারিত স্থানে কোরবানি না দিয়ে যত্রতত্র পশু কোরবানি দেওয়ায় ঈদের সকালে এক অদ্ভূত দৃশ্যের সাক্ষি হলেন রাজধানীবাসী।  সকালের অঝোর বৃষ্টির পানির সাথে কোরবানির পশুর রক্ত ছড়িয়ে পড়ে নগরময়। সৃষ্টি হয় ‌'রক্ত বন্যা'র। রক্তাক্ত পানিতে সয়লাব হয়ে যায় রাজপথ। ফলে নগরময় ছড়িয়ে পড়ে জীবানুও। যা জনস্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বেলা ১১টার দিকে মগবাজারের র‌্যাব-৩ ক্যাম্পের সামনের রাস্তায় হাঁটুপানি দেখা গেলো। ওই এলাকায় সকাল সাড়ে আটটা থেকেই জবাই শুরু হয় কোরবানির পশু। জবাইয়ের পর রক্ত এসে মিশেছে ওই পানি। পানির রঙ হয়ে গেলে লাল। এই পানি সরেনি বেলা একটায়ও।

একই চিত্র দেখা গেলে বেইলি রোড, শাহবাগ, শান্তিনগর, আরামবাগ, বাসাবো, খিলগাঁও, মতিঝিল, ফার্মগেট, রাজারবাগ, মালিবাগসহ অনেক এলাকায়।

সড়কগুলোতে পশুর রক্তমাখা পানি ছড়িয়ে যাওয়ায় পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন,এই রক্ত যদি নর্দমা দিয়ে নদীতে প্রবাহিত হতে না পারে তাহলে রোগব্যাধি ছড়াতে পারে। রক্ত মাখা পানি যেন রাস্তায় আটকে থাকতে না পারে সেজন্য সিটি করপোরেশনকে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দেন তারা। তারা বলেছেন, রাস্তায় রক্ত ছড়িয়ে পড়ায় পুরো সড়কেই ব্লিচিং পাউডার ছিটাতে হবে।

ছবি: ফেসবুক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক এ কিউ এম মাহবুব  বলেন, ‘সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে ঢাকার রাস্তা রক্ত আর পানিতে একাকার। রক্ত ছড়িয়ে পরায় ডায়রিয়া এবং মশা-পোকা-মাকড় এর প্রাদুর্ভাব বাড়বে। দুর্গন্ধ ছড়াবে। এ কারণে যাতে রক্ত পানিতে মিশে রাস্তায় আটকে থাকতে না পারে সেজন্য সিটি করপোরেশনকে উদ্যোগ নিতে হবে।’


ঢাকার সিটি করপোরেশন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দিয়েছে। সকাল থেকেই বর্জ্য অপসারণে কাজ শুরুও হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন এখনও আত্মবিশ্বাসী ঘোষিত সময়েই অপসারিত হবে সব আবর্জনা।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃষ্টিস্নাত রক্ত সরানোর প্রস্তুতি নেই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশেনের। জানতে চাইলে ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তরের বর্জ্য ব্যবস্থাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘রক্ত অনেকটা ড্রেনদিয়ে চলে যাচ্ছে। আর যেটা যাবে না সেসব জায়গায় আমরা ব্লিচিং পাউডার দিয়ে দিব। আমরা নয় হাজার ৯৫০ ব্লিচিং পাউডার কিনেছি।’

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এছাড়া আমরা বর্জ্য রাখার জন্য পলিথিন দিয়েছি। তবে অনেকেই সেই পলিথিনে বর্জ্য রাখছেন না। আমরা বর্জ্য পলিথিনে রাখার জন্য বলছি।’

ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণের জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার বলেন, ‘বৃষ্টি হওয়ায় রক্ত ড্রেন দিয়ে চলে যাচ্ছে। এতে ভালই হয়েছে।’

কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্ধারিত স্থানের সংখ্যা এ বছর এক হাজার ১৫২টি। তবে অনির্ধারিত স্থানেও পশু জবাই করেছেন নগরবাসী। এবারের কোরবানি ঈদে রাজধানীতে তিন লক্ষাধিক পশু জবাই হবে বলে ধারণা করছেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। আর এ থেকে নগরীতে কমপক্ষে ৩০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত বর্জ্য উৎপাদন হবে।

বিগত বছরগুলোতে কোরবানির পশুর বর্র্জ্য অপসারণে যে হিমশিম অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়েছিল, তার পূর্ব অভিজ্ঞতা নিয়েই এবার বাড়তি প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।

নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বছর ১২ হাজার ৪৮২ জন কর্মী গোটা রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে কাজ করবে। তাদের ওপর ভরসা করেই ৪৮ ঘন্টায় বর্জ্য অপসারণের আশা করছেন দু‘মেয়রই। অবশ্য তারা এ আশাবাদের সাথে নগরবাসীর সহায়তাও চেয়েছেন ।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.