সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
কক্সবাজারের উখিয়ায় বিধ্বস্ত হওয়া হেলিকপ্টারের যাত্রী শাহ আলমের উড়ন্ত অবস্থায় সেলফি তোলার কারণে হেলকপ্টারটি দুর্ঘটনায় পড়ে বলে জানিয়েছেন মেঘনা এভিয়েশনের কর্মকর্তা খোরশেদ আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, প্রথমিক তদন্তে জানা গেছে উড়ন্ত অবস্থায় হেলিকপ্টারটির দরজা খুলে সেলফি তুলছিলেন শাহ আলম। এতে ভেতরে বাতাস ঢুকছিল। আর ভেতরে বাতাস ঢোকার কারণেই বিধ্বস্ত হয় হেলিকপ্টারটি।
যাত্রী শাহ আলম এই ঘটনায় নিজেই নিহত হন। আহত হন পাইলট, সহকারি পাইলটসহ চারজন।
খোরশেদ আলমের দাবি , শাহ আলম পাইলটের পাশের সিটেই বসে ছিলেন। তিনি পাইলটের কথা না মেনে দরজা খুলে ছবি তুলতে থাকেন। এ সময় হেলিকপ্টারের ভেতর অতিরিক্ত বাতাস প্রবেশ করলে তা নিয়ন্ত্রণ হারায়।
নিহত শাহ আলম সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার রাজারপুর ইউপির তেঁতুলিয়া গ্রামের শেখ মো. শামসুর রহমানের ছেলে। ঢাকার বেঙ্গল বে নামে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার কর্মকর্তা ছিলেন তিনি। ওই বিজ্ঞাপনী সংস্থার একটি বিজ্ঞাপনে শ্যুটিং এর কাজে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে কক্সবাজার নিয়ে যাওয়া হয়।
শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উখিয়ার ইনানী এলাকার হোটেল রয়েল টিউলিপে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে পৌঁছে দিয়ে ঢাকা ফিরছিলো মেঘনা এভিয়েশনের মালিকানাধীন হেলিকপ্টারটি। এ সময় রেজু নদী সংলগ্ন স্থানে বিধ্বস্ত হয় হেলিকপ্টারটি।
আহতরা হলেন- পাইলট উইন কমান্ডার শফিকুল ইসলাম, বিজ্ঞাপনী সংস্থার কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম ও তার ২ ছেলে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের জানান, সকালে ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসানকে নিয়ে হেলিকপ্টারটি উখিয়ার ইনানী এলাকার হোটেল রয়েল টিউলিপে অবতরণ করে। তাকে নামিয়ে দিয়ে বিজ্ঞাপনী সংস্থা বেঙ্গল বে এর লোকজন নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিলেও কিছু দূর গিয়ে বিধ্বস্ত হয়।
বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি উদ্ধার তৎপরতা শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিভিল এভিয়েশনের সিনিয়র কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন জাফর ও সিনিয়র কনসালটেন্ট হাসমী। দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তারা ঢাকায় ফিরে গেছেন।
সূত্র: বাংলানিউজ