সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
মালয়েশিয়ায় জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে আটক পিয়ার আহমেদ আকাশ (৩৯) দেশে থাকার সময় ছাত্র শিবিরের সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে জানিয়েছে ফেনীর পুলিশ। বছর দশেক আগে একে-৪৭ রাইফেলসহ তিনি আটক হয়েছিলেন র্যাবের হাতে।
শিবিরকর্মী আকাশ বিগত বিএনপি সরকারের শেষ সময়ে জামিনে ছাড়া পেয়ে পালিয়ে মালয়েশিয়ায় চলে যান। বাংলাদেশের অনুরোধে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোল জারি করেছিলো রেড নোটিশ।
মালয়েশিয়ার পুলিশ তার নাম প্রকাশ না করলেও ইন্টারপোলের নোটিশের কথা জানিয়েছিল। আর ওই ব্যক্তিই যে ফেনীর পিয়ার আহমেদ আকাশ, তা নিশ্চিত করেছে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ।
জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কারনে মালয়েশিয়ার পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ গত ১৯ আগস্ট আকাশকে আটক করে। এরপর গত ২ সেপ্টেম্বর তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার ইংরেজি দৈনিক স্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বাংলাদেশি কুয়ালালামপুরের বুকিত বিনতাংয়ে একটি রেস্তোরাঁ চালাতেন। ঢাকার গুলশান হামলায় জড়িতদের একজনের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল।
মালয়েশিয়ার দৈনিক স্টার আরো লিখেছে, ধারণা করা হচ্ছে ওই ব্যক্তি নিজের দেশে হামলা করার পরিকল্পনা করছিলেন।
দেশে ফেরা আকাশকে ঢাকা থেকে প্রথমে দাগনভূঁঞা থানায় নেওয়ার পর ৪ সেপ্টেম্বর আকাশকে ফেনীর জজ আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান। তাকে বর্তমানে ফেনী জেলা কারাগারে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দাগনভূঁঞা থানার ওসি আসলাম উদ্দিন জানান, চট্টগ্রামের আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র থেকে খোয়া যাওয়া কয়েকটি একে-৪৭ রাইফেল বিক্রির সময় ২০০৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর র্যাবের হাতে ধরা পড়েন আকাশসহ তিনজন।
আকাশের বাড়ি ফেনীর দাগনভূঁঞা উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের নয়নপুর গ্রামে। আকাশ ১৯৯৩ সালে ফেনীর শাহীন একাডেমী স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। জানা যায়, স্কুলটি জামায়াত নেতাদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। আকাশের ভগ্নিপতি আবু ইউসুফ ফেনী জেলা জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির। তার মাধ্যমেই আকাশ শিবিরের রাজনীতিতে যুক্ত হন।