সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
পায়রা নদীর উপর একটি সেতু চায় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শীর্ষেন্দু বিশ্বাস। এ দাবিটি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে জানিয়েছে সে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতো ছোট বয়সে শীর্ষেন্দুর এমন সচেতনতা ও সাহস দেখে অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। সেতু তৈরির আশ্বাস দিয়ে তার চিঠির জবাব পাঠিয়েছেন তিনি।
শীর্ষেন্দু পটুয়াখালী সরকারি জুবিলি হাইস্কুলে পড়ে। চিঠিটি সে লিখেছিল গত ১৫ আগস্ট। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় পায়রা নদীর উপর একটি সেতু তৈরি করে দেয়ার আবেদন করেছিল সে।
প্রধানমন্ত্রী চিঠির জবাবে বলেছেন, তিনি শীর্ষেন্দুর কাছে থেকে চিঠি পেয়ে চমৎকৃত হয়েছেন। নদীর উপর দিয়ে যাতায়াতের সময় পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তার উদ্বেগের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মির্জাগঞ্জে পায়রা নদী অত্যন্ত খরস্রোতা। এই স্থানে তিনি শিগগিরই একটি সেতু নির্মাণ করে দেয়ার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রী ফিরতি চিঠিটি লেখেন ৮ সেপ্টেম্বর। সেটি শীর্ষেন্দুর স্কুলে পৌঁছায় ২০ সেপ্টেম্বর।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে চিঠিতে শীর্ষেন্দু লিখেছিল, সে এই দেশের একজন নাগরিক এবং তার বাবার নাম বিশ্বজিৎ বিশ্বাস এবং মায়ের নাম শীলা রাণী সন্যামোত।
শীর্ষেন্দু লিখেছে, “আমি পটুয়াখালী সরকারি হাই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির একজন নিয়মিত ছাত্র। অবিনাশ সন্যামোত আমার নানা। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত দিবসের রচনা প্রতিযোগিতায় আমি বঙ্গবন্ধুর শৈশব নিয়ে রচনা লিখে তৃতীয় হয়েছিলাম।”
সেতু নির্মাণের অনুরোধ জানিয়ে সে লিখেছে “আমার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি এবং বাড়ি যেতে আমাদের পায়রা নদী পার হতে হয়...। এই নদীর বড় বড় ঢেউয়ে কখনো নৌকা ও ট্রলার ডুবে যায়। এ ধরনের দুর্ঘটনায় এই নদীতে অনেক প্রাণহানি হয়েছে। আমি বাবা-মাকে খুব ভালোবাসি, তাদের কখনো হারাতে চাই না। অতএব আমি আপনাকে অনুরোধ করছি মির্জাগঞ্জ নদীতে (পায়রা) একটি সেতু নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নেবেন।”
শীর্ষেন্দু বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। পটুয়াখালীতে একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন তার বাবা। মা কাজ করেন একটি এনজিওতে। পুরাণ বাজার এলাকায় তারা ভাড়া বাসায় থাকেন।