নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
বাংলার নবযুগের প্রথম ও প্রধান নায়ক কীর্তিমান পুরুষ রাজা রামমোহন রায়ের ১৮৩ তম প্রয়াণ দিবস। ১৮৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল শহরে রাজা রামমোহন রায়ের প্রয়াণ ঘটে।
রাজা রামমোহন রায়ের জন্ম ১৭৭২ সালের ২২ মে, হুগলীর রাধানগরে। তিনি সমাজ সংস্কারক, চিন্তাবিদ ও বহু ভাষাবিদ পণ্ডিত। তরুণ বয়সেই তাঁর মনে আধ্যাত্মিক চিন্তার উন্মেষ ঘটে। তিনি উনবিংশ শতাব্দীর বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃত্; পাশ্চাত্য-জ্ঞান, রীতিনীতি ও চিন্তাধারার সঙ্গে ভারতীয় জ্ঞান, রীতিনীতি ও চিন্তাধারা সমন্বয়সাধনের প্রথম উদ্যোক্তা। বাংলা গদ্যের বিকাশে তাঁর অবদান স্মরণীয়। গুরুগম্ভীর বিষয় নিয়ে বাংলায় প্রবন্ধ রচনার প্রথম কৃতিত্বও তাঁর।
প্রাচীন সংস্কৃত শাস্ত্রসমূহকে বাংলা ভাষায় প্রকাশ করে একদিকে যেমন এ ভাষার ভাব ও শব্দ-সম্পদ বৃদ্ধি করেছেন, তেমনি অন্যদিকে এ ভাষায় তর্ক ও বিচারমূলক গ্রন্থ রচনা করে এতে প্রকাশভঙ্গির দৃঢ়তা ও মননশীলতা সঞ্চার করে একে ঋজু, সতেজ ও পুষ্ট করেছেন।
১৮১৫ সালে রামমোহন একেশ্বর উপাসনার উদ্দেশ্যে ‘আত্মীয়সভা’ প্রতিষ্ঠা করেন। একেশ্বরবাদের ওপর ভিত্তি করে তিনি ব্রাহ্মধর্ম প্রবর্তন করেন। ‘নিরাকার ব্রহ্মোপসনাই প্রকৃষ্ট’-এই মত প্রচারের জন্য রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের সঙ্গে তাঁর বিরোধ প্রকট হয়ে ওঠে। হিব্রু ভাষা শিখে বাইবেলের নতুন ব্যাখ্যা দিলে পাদ্রিদেরও বিরাগভাজন হন তিনি।
১৮১৮ সালে তিনি ‘ব্রাহ্ম-সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া তিনি কলকাতায় হিন্দু কলেজ ও অ্যাংলো হিন্দু স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন এবং হিন্দুসমাজে প্রচলিত সহমরণ প্রথা (সতীদাহ প্রথা) বিলোপের প্রয়াস পান। রাজনীতির ক্ষেত্রে তাঁর মতামত ছিল অতি-আধুনিক।
তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন। ১৮৩০ সালে দিল্লির বাদশাহ দ্বিতীয় আকবর কর্তৃক তিনি ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত হন।
বেদান্তগ্রস্ত (১৮১৫), বেদান্তসার (১৮১৫), ভট্টাচার্যের সহিত বিচার (১৮১৭), গোস্বামীর সহিত বিচার (১৮১৮), সহমরণ বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ (১৮১৮), গৌড়ীয় ব্যাকরণ (১৮৩৩) প্রভৃতি বাংলা গ্রন্থ প্রকাশ তাঁর স্মরণীয় কীর্তি।
এছাড়া তাঁর ৩৯টি ইংরেজি রচনাও রয়েছে।