Sylhet Today 24 PRINT

কী আছে স্মার্টকার্ডে

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০২ অক্টোবর, ২০১৬

বেশ কয়েকবার ঘোষণা দিয়েও নাগরিকদের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। অবশেষে রোববার (২ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ডিজিটাল জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন।

সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হাতে এই স্মার্টকার্ড তুলে দেয়ার মাধ্যমে কর্মসূচিটি শুরু হলো।

কী আছে এই স্মার্টকাডে? প্লাস্টিকের লেমিনেটেডে জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলেও এটির প্রয়োজনই বা কেন হলো?

গত আট বছর ধরে একটি সাদা কাগজে, সাধারণ কম্পিউটার প্রিন্টারে চার রঙে ছাপা স্বচ্ছ প্লাস্টিকে মোড়া, একপাশে ছবি, নাম, পিতার নাম আর পরিচয়পত্র নম্বর- এমন একটি জাতীয় পরিচয়পত্রই দেখে আসছে মানুষ। এটির অপরপাশে ঠিকানা ও যন্ত্রে পাঠযোগ্য কোডও রয়েছে।

এটি এখন প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় একটি দলিলে পরিণত হয়েছে। নাগরিক সেবা ও চাকরিতে অবশ্য প্রয়োজনীয় নথি এটি।

ফলে এর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র বানিয়ে অপরাধমূলক কাজ করছে। এমনকি ভুয়া নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট ভিসা পর্যন্ত নেয়া যাচ্ছে এসব ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে।

এই অপব্যবহার রোধ করতেই এটিকে উন্নতমানের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্বলিত কার্ডে পরিণত করার উদ্যোগ নেয় সরকার। নতুন কার্ডটি পাঁচটি স্তরের পলি-কার্বনেট দিয়ে তৈরি। ভেতরে রয়েছে একটি চিপ। আরও রয়েছে তিনটি স্তরের বিভক্ত পঁচিশটি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য।

এই কার্ডের ভেতরে থাকবে নাগরিকের বায়োমেট্রিক তথ্য, অর্থাৎ আঙুলের ছাপ, চোখের মনির ছবি ইত্যাদি।

কর্মকর্তারা বলছেন, এই স্মার্টকার্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভাঙা অত্যন্ত কঠিন। মানেও উন্নত, আন্তর্জাতিক মানের।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ের বেশ কয়েকটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জঙ্গি তৎপরতা দেশের অন্যতম নিরাপত্তা হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনের ক্ষেত্রে নতুন এই স্মার্টকার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় এরকম নয় কোটি স্মার্টকার্ড তৈরি করা হবে।

নাগরিকরা যাতে সহজে এই স্মার্টকার্ড সংগ্রহ করতে পারে এ জন্য প্রতিটি সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিতরণ শিবির বসাবে নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্ট এলাকার নাগরিকদের আগে থেকেই জানিয়ে দেয়া হবে শিবির বসানোর দিনক্ষণ। নির্ধারিত দিনে নাগরিকেরা ওই শিবিরে এসে, আঙুলের ছাপ দেবেন, চোখের মনির ছবি তুলবেন এবং পুরনো কার্ড জমা দেবেন। সঙ্গে সঙ্গেই হাতে দেয়া হবে স্মার্টকার্ড।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.