সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৭ অক্টোবর, ২০১৬
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বিরল একটি গুণ হলো কয়েকজন লোকের বিবৃতি বা কথাবার্তায় কুঁকড়ে যান না। তাদের কথায় কখনো পিছিয়ে যান না। কোনো কাজ করার আগে উনি দশবার ভাবেন। দশবার ভেবে যখন সিদ্ধান্ত নেন তখন কেউ তাকে টলাতে পারে না।
বিশ্বখাদ্য দিবস উপলক্ষে রোববার রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে ‘জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাদ্য এবং কৃষিও বদলাবে’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে দেশের কৃষি উন্নয়নে অর্থমন্ত্রীর অনেক অবদান রয়েছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, “কৃষি উন্নয়নে অনেক বাজেট দরকার। আমরা কৃষিতে আজকে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছি। এ ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর অবদান কোনো অংশে কম নয়। তার কাছে যেকোনো বিষয়ে গেলেই তিনি সহযোগিতা করেছেন। তিনি আমাদের বলেননি- ‘গেট লস্ট’।”
এই সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশ খাদ্যে অভাবনীয় সফলতা অর্জন করেছে। এর পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে এ দেশের কৃষিবিজ্ঞানীরা। আর তাদের সহায়তা দিয়েছে সরকার। বর্তমান সরকারের মূল্য কথা হলো- কাছে আছি, পাশে আছি। বর্তমান সরকার বিজ্ঞানীদের পাশে সব সময় ছিল, আছে এবং থাকবে।’
সরকার কৃষিকে দক্ষিণে নিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘উত্তরের কৃষিকে আমরা দক্ষিণেও নিয়ে যাচ্ছি। ওই অঞ্চলে কৃষিতে অনেক কিছু করার আছে।’
তিনি বলেন, দেশের মানুষ নিজেকে বদলেছে, বদলেছে কৃষিকে। খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ অর্জনের জন্য আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি বলেন, শুধু খাদ্য উৎপাদন নয় খাদ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ও দারুণ কাজ করছে। তিনি বলেন, তাদের সরকারকে দুরবস্থায় ফেলে তামাশা দেখার লোকের অভাব নেই। তবে সরকারকে খাদে ফেলার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। তিনি বলেন, বিদেশ থেকে খাবার কিনে বিদেশিদের ভর্তুকি দেওয়ার চেয়ে নিজের দেশের কৃষককে ভর্তুকি দেওয়া উচিত।
কৃষিসচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মকবুল হোসেন, বিশ্ব খাদ্য সংস্থার (এফএও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি মাইক রবসন।
সেমিনার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. এম এ সাত্তার। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েল উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবে রাব্বানী।
সেমিনার শুরুর আগে সকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল চত্ত্বরে তিনদিনব্যাপী খাদ্য মেলার উদ্বোধন করা হয়।