নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৯ এপ্রিল, ২০১৫
সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরে গতি পাবার একদিন পর 'যৌক্তিক সময়' এর অস্পষ্টতায় ফের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। রিভিউ খারিজের পূর্নাঙ্গ রায়ে বিচারপতিদের স্বাক্ষরের জন্য দুই দিন অপেক্ষার পর বুধবার স্বাক্ষরিত কপি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছালে গতি পায় এ প্রক্রিয়া। তবে আবার সেই প্রক্রিয়া গতি হারিয়েছে। আর স্থবিরতা মূলত প্রাণ ভিক্ষার সময় নিয়ে।
যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামানকে বুধবার রায় পড়ে শোনানোর পর তিনি প্রাণ ভিক্ষার নিয়ে তাঁর আইনজীবীদের সাথে কথা বলতে একদিন সময় চান। কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে বৃহস্পতিবার ১১টায় তার আইনজীবীরা দেখা করে বের হয়ে জানান, প্রাণ ভিক্ষার বিষয়ে কামারুজ্জামান ভাবছেন । তিনি নিজেই এ ব্যাপারে সে সিদ্ধান্ত নিবেন। কতক্ষণে সিদ্ধান্ত নিবেন জানতে চাইলে তারা বলেন যৌক্তিক সময়ের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিবেন।
যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ডের বেলায় জেল কোড পুরোপুরি অনুসরণ না করায় সে যৌক্তিক সময় আসলে কতক্ষণ সে ব্যাপারে পরিষ্কার কিছু বলা নেই। এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, যৌক্তিক সময় মানে দরখাস্ত লেখার সময় টুকুই , যৌক্তিক সময় মানে ৭ দিন নয়। এদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, প্রানভিক্ষার জন্য কারা কর্তৃপক্ষের কাছে একটি নির্ধারিত ফরম রয়েছে, সেটি কামারুজ্জামানকে দেয়া হয়েছে। তবে তিনি সেটি এখনও পূরণ করেন নি। কখন করবেন সে ব্যাপারেও কিছু জানান নি।
অপরদিকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, কামারুজ্জামান প্রাণ ভিক্ষা চাইবেন কিনা আজই তা জানাতে হবে, তিনি কোন কিছু না জানালে তিনি প্রাণ ভিক্ষা চাচ্ছেন না ধরে নিয়ে রায় কার্যকর করা হবে। বিকেলের দিকে শোনা যায় একজন ম্যাজিস্ট্রেট কামারুজ্জামানের কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাইবেন কিনা তা জানতে যাচ্ছেন, পরে শোনা যায় তিনি এখনও যাননি, যেকোনো সময় যাবেন।
বৃহস্পতিবারের মধ্যে কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার এমনকি তার প্রাণভিক্ষা চাওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হচ্ছে না।ঠিক কখন এই বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হচ্ছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।শুক্রবারে রায় কার্যকরের কোন রীতি নেই বাংলাদেশের কারাগারে। কাদের মোল্লার রায় কার্যকর হয়েছিলো বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১ মিনিটে। কাজেই কামারুজ্জামানের রায় বৃহস্পতিবার কার্যকর না হলে শুক্রবারেও রীতি অনুযায়ী কার্যকরের কোন সম্ভাবনা নেই।
দেশের শীর্ষ এ যুদ্ধাপরাধীদের রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছে কামারুজ্জামানের নির্যাতনে স্বামী হারানো সোহাগপুরের বিধবা পল্লীর মানুষজন, মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল এবং গণজাগরণ মঞ্চ।