নিউজ ডেস্ক | ১০ এপ্রিল, ২০১৫
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানের প্রাণভিক্ষার বিষয় জানতে নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে যাওয়া জেলা প্রশাসনের দুই ম্যাজিস্ট্রেট কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেছেন।
শুক্রবার সকাল দশটার কিছুক্ষণ আগে কারাগারে প্রবেশ করেন তানভীর মোহাম্মদ আজিম ও মাহবুব জামিল। এ সময় কারাগারের ফটকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি তারা।
দেড়ঘণ্টারও বেশি সময় অবস্থান করে বেলা সাড়ে এগারোটার পর কারাগার থেকে তারা বেরিয়ে আসেন। এবারও সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা না বলে দ্রুত গাড়িতে উঠে চলে যান তারা।
তবে কারাগার সূত্রে জানা গেছে, কামারুজ্জামান রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না সে বিষয়ে তার মতামত জানতেই কারাগারে গিয়েছিলেন এই দুই ম্যাজিস্ট্রেট।
এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার উদ্দিন, ডিআইজি প্রিজন গোলাম হায়দার ও সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে কামারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করে বের হয়ে আসার পর তাঁর আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের জানান, ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছেন কামারুজ্জামান। তার সিদ্ধান্তের কথা কারা কর্তৃপক্ষকে জানাবেন তিনি।
অপরদিকে দুপুরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দেখা করে প্রাণভিক্ষার ব্যাপারে জানতে চাইবেন কামারুজ্জামানের কাছে। এর অংশ হিসেবেই শুক্রবার সকালে দুই ম্যাজিস্ট্রেট কারাগারে যান বলে জানা গেছে কারাসূত্রে।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদন খারিজ আদেশের কপি কারাগারে পৌঁছায়। কারা কর্তৃপক্ষ তাকে রায় পড়ে শোনান। এ সময় তিনি প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কি না তা জানতে চাওয়া হয়।
এ ব্যাপারে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেন কামারুজ্জামান। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে কামারুজ্জামানের আইনজীবী শিশির মনিরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি আইনজীবী দল কারাগারে যান।
কারাগার থেকে বের হয়ে এসে ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারে শিশির মনির বলেন, কামারুজ্জামান ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি তার সিদ্ধান্তের কথা কারা কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। তবে ভাবনা-চিন্তার জন্য কামারুজ্জামান নির্দিষ্ট করে কত দিন সময় নিয়েছেন সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি শিশির মনির।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় শেরপুর জেলার সোহাগপুর গ্রামে ১৪৪ জনকে হত্যা ও নারী নির্যাতনের দায়ে ২০১৩ সালের ৯ মে কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল-২।
এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হলে কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।
চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হলে গত ৫ মার্চ তা পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন কামারুজ্জামান। ৬ মার্চ এ আবেদনও খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।