সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৬ অক্টোবর, ২০১৬
আশুলিয়ায় র্যাবের অভিযানে ছাদ থেকে লাফিয়ে নিহত আব্দুর রহমান (সাংগঠনিক নাম) ওরফে সারোয়ার জাহানকে র্যাব নব্য জেএমবির আমির দাবি করলেও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইমের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন নিহত সারোয়ার নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনটির তৃতীয় সারির নেতা ছিল।
বুধবার (২৬ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
গত শুক্রবার (২১ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমদ দাবি করেন, সিজার তাবেলা হত্যাকাণ্ডে ‘নব্য জেএমবি’ জড়িত। সারোয়ার জাহানের নেতৃত্বে সিজার তাবেলা হামলার শিকার হন।
কিন্তু পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) বলছে, এই হত্যাকাণ্ডে বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুম জড়িত। তাঁকে অভিযুক্ত করে পুলিশ চার্জশিট দেয়। গতকাল মঙ্গলবার আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মনিরুল ইসলাম বলেছেন, ইতালির নাগরিক সিজার তাবেলা হত্যার অভিযোগপত্র তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।
র্যাব ও পুলিশের এই ভিন্ন তথ্যের ব্যাপারে আজ সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ডিবি তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যা মনে করেছে, তার ভিত্তিতেই চার্জশিট দিয়েছে। এটা কোনো সৃষ্টিশীল রচনা ছিল না। তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যা পাওয়া গেছে, পুলিশ তা-ই বলেছে।’
মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মনে করি, র্যাবের মহাপরিচালক এ কথা বলেননি। একটা দায়িত্বশীল পর্যায়ে থেকে বিচারাধীন কোনো বিষয়ে তিনি এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন না।’
শুক্রবার ওই সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, নারায়ণগঞ্জে তামিম চৌধুরীকে যখন ঘিরে ফেলা হয়, তখন তাঁর সঙ্গে সারোয়ার জাহানের খুদে বার্তা বিনিময় হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে মনিরুল বলেন, ওই দিন সকাল সোয়া ছয়টার দিকে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইমের সদস্যরা তামিমকে ঘিরে ফেলেন। এরপরে তামিম চৌধুরীর হাতে খুব কম সময় ছিল। সে সময় সামান্য যে যোগাযোগ তিনি করতে পেরেছিলেন, তা তানভীর কাদেরী ও মেজর জাহিদের সঙ্গে।
র্যাব দাবি করেছিল, ‘নব্য জেএমবির’ সদস্য আছে আর মাত্র ২১ জন। এ প্রসঙ্গে মনিরুল বলেন, এ ধরনের কোনো তথ্য পুলিশের কাছে নেই। তবে খবর আছে, শীর্ষস্থানীয় নেতারা অভিযানে নিহত হওয়ায় ‘নব্য জেএমবির’ মাঝারি বা নিচের সারির কিছু নেতা এখন দায়িত্ব নিয়েছে।
এদিকে গত ২১ অক্টোবর র্যাব মহাপরিচালক বলেছিলেন, আব্দুর রহমান ওরফে সারোয়ার জাহান ওরফে আবু ইব্রাহিম আল হানিফ ১৯৯৮ সাল থেকে জেএমবির জঙ্গিবাদের সঙ্গে যুক্ত। এই সারোয়ারই নব্য জেএমবির আমির আর পুলিশের দাবি নব্য জেএমবির প্রধান সমন্বয়ক ছিল নারায়াণগঞ্জে পুলিশের অভিযানে নিহত তামিম আহমেদ চৌধুরী।