Sylhet Today 24 PRINT

কারখানায় বিস্ফোরণ : মকবুল হোসেনের ঠিকানাই বের করতে পারছে না পুলিশ!

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২৬ অক্টোবর, ২০১৬

টঙ্গীর টাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেডের কারখানায় বিস্ফোরণের পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন কারখানার মালিক মকবুল হোসেন। এখন পর্যন্ত এই কারখানার মালিক সিলেট-৬ আসনের সাবে সাংসদ মকবুল হোসেন (লেচু মিয়া)সহ আসামীদের কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশের দাবি, মামলার এজাহারে আসামীদের স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ না থাকায় তাদের ঠিকানা খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একজন সাবেক সাংসদের ঠিকানা দেড় মাসেও খোঁজে না পাওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর সকালে এই কারখানা এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর আগুনেপুড়ে যায়। এ ঘটনায় ৪২ জন নিহত হয়েছেন, যাঁর মধ্যে কারখানার কর্মী ৩৯ জন। আহত হন কমপক্ষে ৪০ জন। এ দুর্ঘটনায় পুরো কারখানাটি ধ্বংস হয়ে গেছে। শ্রমিক-কর্মচারী-কর্মকর্তা মিলিয়ে মোট ২৬৪ জন এখন বেকার। পরিবার নিয়ে তাঁরা এখন বিপাকে পড়েছেন।

নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবার এবং বেকার কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর টাম্পাকো কর্তৃপক্ষ তাদের কারও পাশে দাঁড়ায়নি। কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা করেনি। এমনকি কোনো খোঁজও নেয়নি।

বিস্ফোরণের পর পুলিশ কারখানার মালিক মকবুল হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহম্মেদসহ কারখানার মোট ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ কয়েকটি অভিযোগে মামলা করে।

মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তদন্তকারী কর্মকর্তা টঙ্গি থানার উপপরিদর্শক সুব্রত ভক্ত বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ অগ্রগতি আছে। মামলায় যেহেতু আসামিদের স্থায়ী ঠিকানা নেই এবং আগুনে কারখানার সব কাগজপত্র পুড়ে গেছে, তাই আসামিদের ঠিকানা এখনো জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঠিকানা জোগাড়ের চেষ্টা চলছে। ঠিকানা না পাওয়ায় তাঁদের খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না।’

এক সাবেক সাংসদের ঠিকানা খুঁজে না পাওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হলে গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ ফোনে বলেন, তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্ত কাজও চলছে।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিস, গাজীপুর জেলা প্রশাসক এবং শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে শুধু শিল্প মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কিন্তু ঘটনার কারণ সম্পর্কে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

মামলায় হত্যার অভিযোগ
টঙ্গী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অজয় কুমার চক্রবর্তী বাদী হয়ে ঘটনার ছয় দিন পর একটি মামলা করেন। এতে কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে হত্যাসহ সাত ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, কারখানা ভবনটি চার বছর আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। তাই এটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল এবং কারখানার বয়লার বা গ্যাসলাইন ত্রুটিপূর্ণ ছিল। তা জেনেও কারখানার মালিক এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, উপস্থিত শ্রমিক ও সাধারণ লোকজন জানিয়েছেন, কারখানার গ্যাসের পাইপলাইন কয়েক দিন ধরে ফুটো (লিক) ছিল, যা মালিক এবং কর্তৃপক্ষকে বলার পরও মেরামতের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সূত্র : প্রথম আলো

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.