Sylhet Today 24 PRINT

মিতু হত্যা মামলার চার্জশিট হয় নি, অস্ত্র মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি ১৩ নভেম্বর

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২৭ অক্টোবর, ২০১৬

চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আখতারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় আগামী ১৩ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির সময় নির্ধারণ করেছেন আদালত। তবে মিতু হত‌্যার ঘটনায় তার স্বামীর দায়ের করা মামলায় এখনও অভিযোগপত্র দেয়নি পুলিশ। কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুছা নামের সন্দেহভাজনকে ধরতে ইতোমধ্যেই পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে চট্টগ্রামের পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. শাহেনুর এর আদালত এ আদেশ দেন। এ মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত দুই আসামি হলেন- এহতেশামুল হক ভোলা ও মনির হোসেন।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘মিতু হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার মামলা বিচার শুরু জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দায়রা জজ আদালতে এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ১৩ নভেম্বর এই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির সময় নির্ধারণ করেছেন আদালত।'

তিনি আরও বলেন, 'এই দিনে শুনানিতে আসামি ভোলা জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।'

উল্লেখ্য, গত ৫ জুন নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলি ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় মিতুর স্বামী বাবুল আক্তার অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ভোলা ও ভূষি শ্রমিক মনির হোসেনকে আসামি করে বাকলিয়া থানায় অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা করে পুলিশ।

ওই মাসের ২৮ তারিখ ভোলা ও মনিরকে দুটি অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ। বাকলিয়া থানায় তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে এ মামলা করা হয়।

পুলিশ বলে আসছে, ওই দুইজনের কাছ থেকে উদ্ধার করা পয়েন্ট ৩২ বোরের দেশি রিভলবার ও ৭ দশমিক ৬৫ বোরের পিস্তলটি মিতু হত্যায় ব্যবহার করা হয়েছিল।

ভোলাকে হত্যা ও অস্ত্র আইনের দুই মামলায় আসামি করা হলেও ‘তার কর্মচারী’ মনিরকে শুধু অস্ত্র আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ১৪ ‍জুলাই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন মনির।

মিতু হত‌্যার ঘটনায় তার স্বামীর দায়ের করা মামলায় এখনও অভিযোগপত্র দেয়নি পুলিশ। কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুছা নামের সন্দেহভাজন একজন গ্রেপ্তার না হওয়ায় তদন্তও থমকে আছে। মুছাকে ধরিয়ে দিতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করেছে চট্টগ্রামের পুলিশ।

ওই ঘটনায় পুলিশের হাতে সাতজন গ্রেপ্তার হওয়া ছাড়াও আরও দুজন পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। গ্রেপ্তারদের মধ্যে মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম ও আনোয়ার হোসেন হত‌্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে গত ২৬ জুন আদালতে জবানবন্দি দেন। পুলিশের দাবি, ওই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তারা মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মুছার নাম বলেন।

মিতু হত‌্যাকাণ্ডের কয়েক দিন আগে চট্টগ্রাম থেকে এসপি হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ঢাকায় বদলি হয়েছিলেন তার স্বামী বাবুল আক্তার। স্ত্রী খুন হওয়ার পর দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকার বনশ্রীতে শ্বশুরবাড়িতে ওঠেন বাবুল। ওই বাড়ি থেকে বাবুলকে গত ২৪ জুন ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে ১৪ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর নানা গুঞ্জন ছড়ায়। তখন তার কাছ থেকে জোর করে পদত্যাগপত্র নেওয়ার খবর ছড়ালেও সে বিষয়ে কেউই মুখ খুলছিলেন না।

গত ১৪ আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, বাবুলের অব্যাহতির আবেদন তার কাছে রয়েছে। তার ২২ দিন পর ৬ সেপ্টেম্বর বাবুলকে চাকরি থেকে অব‌্যাহতি দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন হয়।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.