সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৩ নভেম্বর, ২০১৬
নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) ৪ জঙ্গিকে আটক করেছে বাগেরহাটের পুলিশ। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবরুদও উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।
বাগেরহাট শহরে পুলিশের এক অভিযানে সন্দেহভাজন চার জেএমবি সদস্যকে অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার রাতে শহরের দড়াটানা ব্রিজ এলাকা থেকে ওই ব্যক্তিদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার চারজন হলেন- সাতক্ষীরা জেলা সদরের গড়েরকান্দা গ্রামের জুম্মান আলী সরদারের ছেলে মো. মাকসুদুর রহমান ওরফে তোতা (২৪), একই জেলার ইটাগাছা গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৬), কদমতলা বাজার এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মোরশেদ আলম (২০) ও পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আশরাফুল আলী ফরাজীর ছেলে জহিরুল ইসলাম (২২)।
বাগেরহাট পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায় জানান, নাশকতা সৃষ্টির জন্য জেএমবি সদস্যরা ওই এলাকায় জড়ো হয়েছে খবর পেয়ে অভিযান চালায় পুলিশ।
তিনি জানান, এ সময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে হাতবোমা ছোড়ে এবং গুলি করে। পুলিশও পাল্টা গুলি করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করে।
পুলিশের ভাষ্য, এই চারজন নিষিদ্ধ জঙ্গি সঙ্গঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য।
“দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় জেএমবি সদস্যরা আওয়ামী লীগ নেতা ও পুলিশ সদস্যদের উপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। তার অংশ হিসাবে এরা বাগেরহাটে নাশকতা চালাতে সংঘবদ্ধ হয়েছিল,” বলেন পুলিশ সুপার।
তিনি জানান, ওই চারজনের কাছ থেকে একটি ওয়ান শুটারগান, দুটি গুলি, দুটি হাতবোমা, দুটি ধারালো অস্ত্র, ল্যাপটপ, কয়েকটি মোবাইল ফোনসহ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সাত-আটজন জেএমবি সদস্য নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা নিয়ে শহরের দড়াটানা ব্রিজ এলাকায় একটি চায়ের দোকানে জড়ো হয়েছে খবর পেয়ে বাগেরহাট মডেল থানা ও গোয়ান্দা পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযানে যায়।
“পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জেএমবি সদস্যরা বোমা ছুড়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে ধাওয়া করে চারজনকে ধরে ফেলে।”
এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও আইসিটি আইনে চারটি মামলা করেছে পুলিশ।