নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৬ নভেম্বর, ২০১৬
ফাইল ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর, হিন্দু বাড়িঘরে হামলা, লুটতরাজ ও হিন্দুদের উদ্দেশে মালাউনের বাচ্চা বলে গালি দেওয়ার ঘটনায় সমালোচনায় থাকা মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক এক সংবাদ সম্মেলনে হিন্দুদের গালি দেওয়ার ঘটনাকে অস্বীকার করে হামলাকালীন সময়ে প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করে ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সমালোচনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী ছায়েদুল হক দাবি করেছেন, “এত বছরের জীবনে কখনো কোন হিন্দুকে মালাউন বলেছি বলে কেউ প্রমাণ দিতে পারবে না, আমি চ্যালেঞ্জ করলাম”।
রোববার (৬ নভেম্বর) নাসিরনগর ডাকবাংলোয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছায়েদুল হক এমন দাবি করেন।
মন্ত্রী বলেন, সংখ্যালঘুদের মন্দির ও ঘরবাড়িতে হামলার ঘটনায় প্রশাসনের কোন ব্যর্থতা ছিল না। ওসি ও ইউএনও’র প্রশংসা করে মন্ত্রী দাবি করেন, এরাই হামলা ঠেকিয়েছে।
কেন ইসলামি দলগুলোকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হল এবং সেখানে ওসি ও ইউএনও বক্তব্য দিলেন- এমন প্রশ্ন করা হলে উত্তেজিত হয়ে পড়েন ছায়েদুল হক।
১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম এই ঘটনার জন্য প্রশাসনকে দায়ি করে সব কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানানোর প্রসঙ্গে ছায়েদুল হককে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “নাসিম সাহেব কি আইছেন এলাকায়? আমি আছি। না আইসা এইগুলা বলা যায় না। আমার মনে হয় তাঁকে ভুল বোঝানো হয়েছে”।
তিনি বলেন, “আমি ৬ দিন থেকে এলাকায় আছি। গত রোববার বিকালের পর থেকেই পরিস্থিতি শান্ত। অল্প দুয়েকটি ঘটনা ফাঁকফোকর পেয়ে পরে ঘটলেও ওইগুলা নিয়ন্ত্রণে আছে”।
জেলা আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে ছায়েদুল বলেন, “তারা কাউকে বহিষ্কারের এখতিয়ার রাখে না”।
রসরাজ ফেসবুক ব্যবহারে পারদর্শী নয় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “সে জেলে মানুষ, এইগুলা করার বুদ্ধি যে তার নেই সেটা আইটি এক্সপার্টদের পরীক্ষায় বের হয়েছে”।
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর রসরাজ দাস নামের এক হিন্দু যুবক ফেসবুকে কাবা শরীফের উপরে হিন্দু মূর্তির ছবি স্থাপন করে এক পোস্টের পর তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে উত্তেজনা বিরাজ করে। ওই পোস্টের দুই দিন পর রোববার (৩০ অক্টোবর) হেফাজতে ইসলাম ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত নামের ধর্মভিত্তিক দুই সংগঠন সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে। মিছিল থেকে সেখানকার হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর, হিন্দু বাড়িঘরে হামলা ও লুটতরাজ চালানো হয়।
ঘটনার ৩দিন পর নিজের নির্বাচনী এলাকায় যান মন্ত্রী ছায়েদুল হক নাসিরনগর ডাকবাংলোয় একদিন অবস্থান করে চতুর্থ দিন আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।
ডাকবাংলোয় অবস্থানকালে তিনি হিন্দুদের মালাউনের বাচ্চা বলে গালি দেন এমন অভিযোগ ওঠে। বাংলাদেশ হিন্দু খ্রিস্টান বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি সাংবাদিকদের জানালে প্রতিবাদ নিন্দার ঝড় ওঠে। এমন অবস্থায় মন্ত্রী ছায়েদুল হকের সাম্প্রদায়িক আচরণের প্রতিবাদে অনেকেই তার পদত্যাগের দাবি জানান।
এদিকে, নিজ নির্বাচনী এলাকায় অবস্থানকালে বৃহস্পতিবার রাতে ফের নাসিরনগরের কয়েকটি হিন্দু বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়, শনিবার রাতে ওই এলাকার হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যানের বাড়িতেও আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।