সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৬ নভেম্বর, ২০১৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের ঘরবাড়ি ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন মহলের দাবির মুখে অবশেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই ইউএনওকে প্রত্যাহারের আদেশ রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি হয়েছে। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৪তম ব্যাচের এই কর্মকর্তাকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
এর আগে নাসিরনগর থানার ওসি আব্দুল কাদেরকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তাদের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হকের পদত্যাগের দাবিও উঠেছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ অক্টোবর নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের এক যুবকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ছবি পোস্ট করা হয় যা মুসলমানদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা ওই যুবককে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। খবর ছড়িয়ে পড়লে ৩০ অক্টোবর সকাল থেকে নাসিরনগর উপজেলা সদরের কলেজ মোড় এবং খেলার মাঠে একাধিক ইসলামি দলের নেতারা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ তিন থেকে ৪শ’ লোক সংঘবদ্ধ হয়ে এ ঘটনার জন্য হিন্দু পরিবারগুলোর ওপর চড়াও হয়। এসময় পুরো উপজেলা সদরের হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক পরিবার এবং তাদের মন্দিরের ওপর হামলা চালায় তারা। ৩০ অক্টোবরে ওই হামলার পর কড়া পুলিশ পাহারার মধ্যেও পাঁচদিন পর গত শুক্রবার আবার নাসিরনগরে হিন্দুদের ঘরে অগ্নিসংযোগ হলে প্রশাসনের গাফিলতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তার দুদিনের মধ্যে ইউএনও মোয়াজ্জামকে সরিয়ে দেওয়া হল। হামলার আগে আহলে সুন্নাতের সমাবেশে ইউএনও মোয়াজ্জেম নিজেই উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন বলে আক্রান্তরা অভিযোগ করেছিলেন।