সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৩ নভেম্বর, ২০১৬
ট্রি প্ল্যান্টেশন প্রকল্পের ৩৫ লাখ গাছ বিক্রি করে ২ হাজার ৮শ’ কোটি টাকা অথবা নগদ ২ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা ছয় সপ্তাহের মধ্যে জমা দিলে তবেই অর্থপাচারের দুই মামলায় জামিন পাবেন ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিন ও ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন।
রোববার (১৩ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) নেতৃত্বে তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ জামিন দেন।
আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদকের) আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন খুরশীদ আলম খান।
তিনি বলেন, আদালত ৬ সপ্তাহের কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব নির্দেশনা পূরণ করলে তারা জামিনে মুক্ত হতে পারবেন। আদালতে আজ তাদের পক্ষ থেকে একটি হলফনামা দেওয়া হয়েছে। যাতে বলা হয়েছে, তাদের কাছে ৩৫ লাখ গাছ আছে। প্রতিটি গাছ আট হাজার টাকা করে বিক্রি করে ২ হাজার ৮শ’ কোটি টাকা দিতে পারবেন তারা।
এ গাছ বিক্রি করতে দুই আসামি যে কারাগারে আছেন, সেখানে তাদের সঙ্গে গাছ বিক্রির সকল কাগজপত্রে স্বাক্ষর ও আলোচনা করার সুযোগ দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদেশের পর দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, “আদালত ছয় সপ্তাহ সময় ও কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী শর্ত পূরণ করলে তবেই তারা জামিনে মুক্তি পাবেন।
ডেসটিনির দুই কর্মকর্তার পক্ষে আদালতে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি।
দুর্নীতি দমন কমিশন ২০১২ সালের ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় ডেসটিনি গ্রুপের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে।
তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ৫ মে দুদক আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। এর মধ্যে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির মামলায় ১৯ জন এবং ডেসটিনি ট্রি প্লানটেশন লিমিটেডে দুর্নীতির মামলার ৪৬ জনকে আসামি করা হয়। হারুন-অর-রশিদ ও রফিকুল আমিন দুই মামলাতেই আসামি।
ডেসটিনি ট্রি-প্ল্যানটেশনের সিইও ড. শামসুল হক ভূঁইয়া এমপির তত্ত্বাবধানে সবকিছু হবে। যদি গাছ বিক্রি করে ২ হাজার ৮শ’ কোটি টাকা দিতে না পারেন, তাহলে নগদ ২ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দেবেন তারা। এর অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবরে পাঠাতে হবে। এরপর যারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, যাচাই করে তাদের কাছে টাকা হস্তান্তরের পর জামিনে মুক্তি পাবেন দুই কর্মকর্তা।
খুরশীদ আলম খান বলেন, মোট কথা আদালতের আদেশ প্রতিপালন করলে জামিনে মুক্তি পাবেন তারা।