Sylhet Today 24 PRINT

অমঙ্গল বিতাড়নের মঙ্গল শোভাযাত্রা

নিউজ ডেস্ক |  ১৪ এপ্রিল, ২০১৫

অমঙ্গল বিতাড়ন করে আলোর দ্বীপ জেলে নতুনের আবাহনে শেষ হলো মঙ্গল শোভাযাত্রা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণীর মানুষের পদচারণায় জনস্রোতে পরিণত হয়েছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা প্রাঙ্গণ। বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক পহেলা বৈশাখ বরণের অন্যতম আকর্ষণ মঙ্গল শোভাযাত্রায় ছিলো বর্ণিল সাজের রঙিন জনস্রোত।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে চারুকলা গেট থেকে এ বাঁধভাঙা জনস্রোত নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

কালো ছায়া দূর করে আলো ছড়িয়ে দেওয়ার স্লোগান ‘অনেক আলো জ্বালতে হবে মনের অন্ধকারে’ মূল প্রতিপাদ্য সামনে রেখেই ঢাবি চারুকলা অনুষদের আয়োজনে শুরু হয়েছে বর্ণাঢ্য এ মঙ্গল শোভাযাত্রা।

শোভাযাত্রাটি শাহবাগ মোড় থেকে হোটেল রূপসী বাংলা মোড় হয়ে আবার শাহবাগ মোড় ঘুরে টিএসসি হয়ে চারুকলার সামনে এসে শেষ হয় সকাল ১০টায়।

রমনার বটমূলে ছায়ানটের সুরের তালে নববর্ষ বরণের যে উৎসব শুরু হয়েছে তার ঢেউ লেগেছে বাঙালি জাতির আঙিনায়। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পুরো বাংলাদেশ এখন ১৪২২ বাংলা বর্ষবরণের রঙে রঙিন। এই রং সাম্প্রদায়িকতার কালো ছায়াকে নির্মূলের বার্তা বইয়ে দিচ্ছে কানে কানে।

তরুণেরা মাথায় গামছা বেঁধে, পাঞ্জাবি পরে ও তরুণীরা শাড়ি পরে বৈশাখের নানা বর্ণিল সাজে নিজেকে সাজিয়ে এসেছেন শোভাযাত্রায়। প্রাণের এ শোভাযাত্রায় অংশ নিতে উপস্থিত হয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী-পেশাজীবী-আইনজীবী-নারী-শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষ।

স্বাধীনতার চার দশকেরও বেশি সময় পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় বাস্তবায়ন শুরু হয়ে গেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত রায়ও পাচ্ছেন দেশবাসী। স্বভাবতই সব হাত এখন আলো ছড়াচ্ছে। এখন ওইসব পাক হানাদ‍ারের দোসরদের হাতের মুঠোয়‍ এনে আঙুলের চাপে পিষ্ট করতে প্রস্তুত সবাই।

প্রথমবারের মতো এমনই এক হাতের কাঠামো ঠাঁই পেয়েছে বাঙালির ঐতিহ্যের নববর্ষ বরণের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায়। সব অশুভ শক্তি আর অন্ধকার দূরে ঠেলে দিয়ে নতুন বছর শুরুর প্রত্যাশায় এমন হাতের প্রতীকী নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে এবারের শোভাযাত্রায়।

হাতের এই কাঠামোসহ আরও দশটি বিভিন্ন প্রতীকের কাঠামো নিয়ে শুরু হয়েছে এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা। এর মধ্যে রয়েছে একটি করে হাতি, ঘোড়া, বাঘ, মাছ, টেপা পুতুল ও ছাগল এবং তিনটি পাখি। পাখি তিনটির মধ্যে একটি কাকাতুয়া এবং দুটি পায়রা। এর প্রতিটি কাঠামোই ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বহন করছে। মূল দশটি প্রতীক ছাড়াও শোভাযাত্রায় রয়েছে বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যের অংশ হয়ে ওঠা অসংখ্য মুখোশ। ঢোল, ডুগডুগি, একতারা, বাঁশিসহ দেশি বাদ্যযন্ত্রগুলোতো আছেই।

তরুণ-তরুণীরা গান-বাদ্যের তালে নেচে-গেয়ে বরণ করে নেয় নতুন বছর।

শোভাযাত্রা শেষে চারুকলা অনুষদের পশ্চিম পাশে সারা দিন ধরে চলবে পুতুলনাচ ও চড়ক। পরদিন সন্ধ্যায় বকুলতলায় শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হবে যাত্রাপালা রক্তাক্ত প্রান্তর।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.