Sylhet Today 24 PRINT

রিজার্ভের অর্থ চুরি : ক্ষতিপূরণ দেয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই আরসিবিসি\'র

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ৩০ নভেম্বর, ২০১৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া রিজার্ভের দেড় কোটি ডলার এরই মধ্যে ফেরত দিয়েছে ফিলিপাইন। বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল বাকি অর্থ উদ্ধারে দেশটিতে সফর করছেন। সফরকালে তারা রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) কাছে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫ কোটি ডলার চাইবেন বলেও জানানো হয়। তবে আরসিবিসি জানিয়ে দিয়েছে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের। এতে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে অর্থ উদ্ধারে যাওয়া বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে।

চুরি হওয়া রিজার্ভের বাকি অর্থ উদ্ধারে গত শনিবার ফিলিপাইনে যায় বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল। আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটির সফরকালেই গত রোববার ম্যানিলায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ গণমাধ্যমকে বলেন, আরসিবিসির কাছে আমরা ক্ষতিপূরণ চাইব। ফিলিপাইনের সিনেটে শুনানি চলাকালেই তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আরসিবিসিকে অভিযুক্ত করা গেলে বাংলাদেশকে ৫ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে।

তবে রিজার্ভ চুরির জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে উল্টো বাংলাদেশ ব্যাংকের গাফিলতিকেই দায়ী করেছে আরসিবিসি। ব্যাংকটির পরামর্শক থিয়া দায়েপ গতকাল বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গাফিলতির কারণেই রিজার্ভ চুরির ঘটনাটি ঘটেছে। স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতিপূরণ বাবদ বাংলাদেশ ব্যাংককে কোনো অর্থ দেয়ার পরিকল্পনা আরসিবিসির নেই।

ফিলিপাইন সরকারের সঙ্গে স্বচ্ছ আচরণ করতে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করছি। এরই মধ্যে তাদের যথেষ্ট সহায়তা করেছে সরকার। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পরিচালিত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশেরও আহ্বান জানিয়ে এক সাক্ষাত্কারে দেশটির সংবাদ মাধ্যম সিবিএন নিউজকে থিয়া দায়েপ একথা বলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের বলেন, আরসিবিসির আইনজীবী এ ধরনের কথা বলেছেন বলে শুনেছি। আইনজীবীরা এ ধরনের কথা বলতেই পারেন। তবে রিজার্ভের চুরি হওয়া অর্থের বাকি অংশ উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে চুরি যায় ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার। এর মধ্যে শ্রীলংকা থেকে ২ কোটি ডলার উদ্ধার সম্ভব হলেও ফিলিপাইনে যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের বড় অংশেরই এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া এ অর্থফিলিপাইনের আরসিবিসির জুপিটার স্ট্রিট শাখার মাধ্যমে দেশটিতে প্রবেশ করে। এ কারণে শুরু থেকেই এ ঘটনার সঙ্গে ব্যাংকটির কর্তৃপক্ষ জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে আরসিবিসির জুপিটার শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দাগুইতোসহ বেশ কয়েকজনকে একাধিকার জিজ্ঞাসাবাদও করেছে বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.