অনলাইন ডেস্ক | ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬
ফাইল ছবি
নির্যাতনে মিয়ানমার থেকে মাঝরাতে নৌকায় করে পালিয়ে বাংলাদেশে আসছিলেন এক রোহিঙ্গা প্রসূতি। নাফ নদীতে নৌকার মধ্যেই সন্তান প্রসব হয় তাঁর।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিয়ে সম্প্রতি একাত্তর টিভির এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে এ ঘটনা। এই প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে রাখাইনে রোহিঙ্গাবাহিনীর নির্যাতনের নানা চিত্র। বাদ যাচ্ছেন না নারী এবং বেমসামরিক পুরুষরাও।
একাত্তর টিভির ওই প্রতিবেদনে নবাগতা মা বলেন, আমর মা বোন নিয়ে ৫জনকে হত্যা করেছে তারা। আমি আমার জীবন বাঁচাতে পালিয়ে এসেছি এখানে। তবে এখনো তাঁর সন্তান বেঁচে আছে বলে জানান ওই নারী।
নির্যাতনে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা আরো কয়েকজন রোহিঙ্গা নারী বলেন, আমাদের দেশে যেখানে সেখানে মানুষ মেরে ফেলছে। কখনোও বা আগুনে পুড়িয়ে মারছে আবার কখনো বা গুলি করে মারছে। তাই আমরা রাতের অন্ধকারে এখানে পালিয়ে এসেছি।
সাত সকালেই নাফ নদীর তীরবর্তী দিগন্তজোরা বিল এলাকায় দেখা যায় অন্য এক চিত্র। চোখে মুখে আতঙ্ক নিয়ে পায়ে হেটে দলে দলে শত শত লোকজন আসছে টেকনাফের দিকে।
প্রতিবেদক জানান, তাদের সাথে কথা বলতে চাইতেই কেঁদে উঠেন কেউ কেউ। কাঁদতে কাঁদতে তাদের মধ্যে একজন বলেন, আমি যে গলি দিয়ে পালিয়ে এসেছি সেখান থেকে কাউকে কাউকে ধরে নিয়ে গিয়ে তারা পাশবিক নির্যাতন চালাচ্ছে। মাটিতে ফেলে কারো বুকে আবার কারো কপালে যাকে যেভাবে পারেছে সেভাবে মারছে। আর মেয়েদের ধরে নিয়ে গিয়ে চালাচ্ছে নির্যাতন। তারা কখনো তিন জন আবার কখনোবা পাঁচজন মিলে নির্যাতন চালাচ্ছে একেক জন মেয়ের উপর।
এই প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, শুধু সাধারণ নাগরিক নয় মিয়ানমার থেকে জীবন বাচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন দুই ইউনিয়নের দুইজন প্রতিনিধি। তাদের কাছ থেকে জানা যায় অন্যরকম এক তথ্য। তারা বলেন, ১ লাখেরও বেশি মানুষ মায়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে । আরো কয়েক লাখ মানুষ অপেক্ষায় আছে কখন তারা বাংলাদেশে আসবেন।
ঠিক একই বক্তব্য পাওয়া গেলো স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে। তারা বলছেন সেখানকার অত্যাচার থেকে বাঁচতে লাখেরও অধিক মানুষ মায়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছে। আরো ৪-৫ লাখ মানুষ আসতে পারে বলে ধারণা তাদের।
তবে হঠাত করেই মানুষের এ ঢল দেখে দোটানায় পরেছে টেকনাফের বাসিন্দারা। তারা এখন বুঝতে পারছেন না, তারা তাদেরকে কাছে টেনে নেবেন না দূরে ঠেলে দেবেন!
উল্লেখ্য, গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের তিনটি সীমান্ত পোস্টে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ হামলায় নয় সীমান্ত পুলিশ নিহত হওয়ার পর রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোতে শুরু হয় সেনা অভিযান।
রাখাইন রাজ্যে যা হয়েছে, তা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে বলে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের ভাষ্য।
অভিযানে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলে এলেও নির্যাতনের খবর অস্বীকার করে যাচ্ছে মিয়ানমার।
কয়েক দশক ধরে ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের ভার বহন করে আসা বাংলাদেশ সরকার নতুন করে শরণার্থী না নেওয়ার অবস্থান নিয়েছে। সেজন্য সীমান্তে কড়া পাহারা চলছে।
তবে তার মধ্যেও রোহিঙ্গারা ঢুকে পড়ছে এবং এই সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের দাবি। এদের অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন আগে শরণার্থী হয়ে বাংলাদেশে আসা স্বজনদের কাছে।