Sylhet Today 24 PRINT

বিস্ময়ের নাম খাদিজা

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

সকল শঙ্কা কাটিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠছেন খাদিজা বেগম নার্গিস। দেশবাসীর শুভকামনাকে সঙ্গী করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন সিলেটের এই কলেজ ছাত্রী। কিছুদিন আগেও যার মাত্র পাঁচ শতাংশ বাঁচার আশার কথা জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা, সেই খাদিজাই সবাইকে বিস্মিত করে দিয়ে এখন পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পথে।

কথা বলা ও কারো সঙ্গে দেখা করায় চিকিৎসকদের নিষেধ থাকলেও তিনি এখন আপনজনদের সঙ্গে আধো আধো কথা বলছেন।

চিকিৎসকদের সহযোগিতায় দৈনিক পত্রিকায় চোখ বুলাচ্ছে খাদিজা। বামদিকের  অবশ হাত ও পা সচল হয়ে উঠছে। ফিজিওথেরাপিস্টরা তাকে সঙ্গে নিয়ে  হাঁটার প্র্যাকটিস করাচ্ছেন। তবে কয়েক পা হেঁটেই সে ক্লান্ত হয়ে যায়।

গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর কড়া নির্দেশনা তার সঙ্গে দেখা বা কথা বলা যাবে না। সর্বক্ষণ তিনি তার ঘনিষ্টজনদের তত্ত্বাবধানেই থাকছেন। দুইজন মনস্তাত্বিক চিকিৎসক তার সঙ্গে কাজ করছেন।

তার ওপর পাশবিক বর্বরতার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হলে বা মনে পড়লে তিনি তা কীভাবে নেবেন তা নিয়ে শংকিত মনস্তাত্বিক বিশেষজ্ঞরা।

সিলেটে ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত খাদিজাকে স্কয়ার হাসপাতাল থেকে ফিজিওথেরাফি চিকিৎসার জন্য সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্থদের পূনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) আনা হয়। গত ২৮ নভেম্বর থেকে সেখানে ১০৫ নম্বর ক্যাবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খাদিজা।

বৃহস্পতিবার দেখা যায়, খাদিজা ফিজিওথেরাপিস্ট ছাড়াই একা একা হাঁটছেন। থেরাপি সাইকেলে বসে পেডেল দিয়ে পা নাড়াচ্ছেন। খাদিজার সঙ্গে তার বাবা মাসুক মিয়া ও মা মনোয়ারা বেগমও সেখানে অবস্থান করছেন।

সিআরপির নিউরোলোজি বিভাগের প্রধান ডা.সাঈদ উদ্দিন হেলাল জানান, খাদিজাকে পুরোপুরি সুস্থ্ করার জন্য আমরা সর্বাত্মাক চেষ্টা করছি। তিনি এখন স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন।

চিকিৎসক জানান, খাদিজা সিআরপির নির্বাহী পরিচালক শফিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। তাকে আনার পর পরই একটি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে তিন মাসের পরিকল্পনা নিয়ে তার চিকিৎসা চলছে।

খাদিজার বাবা মাসুক মিয়া জানান, খাদিজা আগের চেয়ে বেশ সুস্থ হয়ে উঠছে। তার মনে আনন্দ ও চঞ্চলতা ফিরে আসছে।

খাদিজাকে এক নজর দেখার জন্য সিআরপিতে গনমাধ্যম কর্মীরা ও স্থানীয় লোকজন জড়ো হলেও তার সঙ্গে কারো দেখা করার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, গত ৩ অক্টোবর সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী খাদিজা পরীক্ষা দিয়ে ফেরার পথে  ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের চাপাতি হামলার শিকার হন। মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে প্রথমে খাদিজাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর খাদিজাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সূত্র : যুগান্তর

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.