Sylhet Today 24 PRINT

প্রখ্যাত আইনজীবীর পরিবর্তে দলীয় বিবেচনায় পিপি-এপিপি নিয়োগ হয়: প্রধান বিচারপতি

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২৯ জানুয়ারী, ২০১৭

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, 'প্রতিটি জেলার প্রখ্যাত আইনজীবীর পরিবর্তে এখন দলীয় বিবেচনায় পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও অ্যাসিস্টান্ট পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) নিয়োগ দেওয়া হয়।

আগে জেলার প্রখ্যাত আইনজীবীরা ফৌজদারি মামলায় পিপি-এপিপি হিসেবে নিয়োগ পেতেন। এখন এপিপি বলতে সরকারি দলের, যে-ই থাকে, তাদের একটি প্যানেল তৈরি করা হয়। এর বাইরে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয় না। দলীয় বিবেচনায় সরকারি আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ায় ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।'

তিনি বলেন, 'একটা নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটেছে। মামলার একপক্ষে প্রথিতযশা ও অভিজ্ঞরা থাকেন, অন্যপক্ষে অনভিজ্ঞরা থাকেন। এ ক্ষেত্রে খাপ খায় না। ভারসাম্য রক্ষা হয় না। এর ফলে সরকারি তহবিল থেকে টাকা চলে যায় ঠিকই, প্রকৃতপক্ষে দুস্থরা বিচার পান না।'

তিনি বলেন, ‘আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। তারা সবাই আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকারী। এটা কতদূর আমরা দিতে পেরেছি? আমি বলবো, পারিনি। বিষয়টি আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে।’

এসব বিষয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

শনিবার সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা ও প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।

সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা ও লিগ্যাল এইড কমিটি অসহায়, অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিতদের সরকারি অর্থে আইনি সহায়তা দিয়ে আসছে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, 'লিগ্যাল এইডের মামলা যেসব আইনজীবী পরিচালনা করছেন তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলেই গরিব ও দুস্থ বিচারপ্রার্থীরা প্রকৃত অর্থে আইনি সহায়তা পাবেন।'

এ জন্য তিনি আইনের কারিগরি বিষয়, যেমন-স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দি ইত্যাদি বিষয়ে লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবীদের প্রতি মাসে একবার প্রশিক্ষণ দিতে কমিটির চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানান।

গত ২৬ জানুয়ারি গাজীপুরের কিশোর ও কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্র পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, 'সেখানে শুধু গরিবেরা নয়, ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানরা প্রভাবশালীদের চাপে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্য অপরাধীদের সঙ্গে খারাপ অবস্থায় আছে। সেখানে আমাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থারও একটু বাড়াবাড়ি হচ্ছে। অনেকে আছে এসএসসি পরীক্ষার্থী, তাদের যেন জামিনের ব্যবস্থা করা হয় তার জন্য বলেছি।'

তিনি বলেন, 'দরিদ্র জনগোষ্ঠী ছাড়াও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে আইনি সহায়তা দিতে হবে।'

সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, 'আমাদের দেশের শত শত কোটি টাকার মালিকেরা আয়কর দেন না। তারা শত কোটি টাকা লেনদেন করেন, জাল নথি ও ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানি করেন, কিন্তু যখন এ বিষয়টি ধরা পড়ে তখন জড়িতদের খুঁজে পাওয়া যায় না। এটাই আমাদের দেশের প্রকৃত ঘটনা।'

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, 'দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। আইনি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বার্ষিক আয়ের যে সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে তার পরিধি বাড়ানো দরকার। আমরা মনে করি যার ওপর আয়কর প্রযোজ্য হবে না তাকে যাতে লিগ্যাল এইড দেওয়া যায় এ বিষয়টি সরকারের বিবেচনা করা উচিৎ।'

সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান এম ইনায়েতুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মোস্তাফিজুর রহমান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য সচিব টাইটাস হিল্লোল রেমা।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.