নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৯ এপ্রিল, ২০১৫
ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামিলীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা ছাড়া বেশিরভাগ প্রার্থীরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। জামানত হারানো প্রার্থীদের এ দলে আছেন বেশ কয়েকজন আলোচিত ও হেভিওয়েট প্রার্থী।
জামানত হারানো উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ আব্দুর রহীম সাকী (জোনায়েদ সাকী), সাবেক সংসদ সদস্য ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের মাহী বি চোধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনী।
প্রার্থীগণ নির্বাচন পূর্ববর্তী এবং নির্বাচনকালীন সময়ে বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেলের টকশো এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন। নির্বাচনে ন্যূনতম ভোট না পাওয়ায় বিধি অনুযায়ী তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
নির্বাচন পরিচালনা আইন স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০-এর ৪৪ (৩) ধারা অনুযায়ী কোনো প্রার্থী মোট নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশের কম ভোট পেলে তার জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত হয়ে সরকারের কোষাগারে জমা হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন
উত্তর সিটিতে ১৬ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৮ লাখ ৭৪ হাজার ৫৮টি। এর এক অষ্টমাংশ হচ্ছে ১ লাখ ৯ হাজার ২৫৭টি ভোট। জামানত রক্ষকারী দুই প্রার্থী ভোট পেয়েছেন তাবিথ আউয়াল ৩ লাখ ২৫ হাজার ৮০ ভোট ও আনিসুল হক পেয়েছেন ৪ লাখ ৬০ হাজার ১১৭ ভোট।
যাদের জামানত বাজেয়াপ্ত
গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি পেয়েছেন ৭ হাজার ৩৭০, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতা আবদুল্লাহ আল ক্বাফী ২ হাজার ৪৭৫ ও মাহী বি চৌধুরী ১৩ হাজার ৪০৭ ভোট।
এছাড়া জাতীয় পার্টির বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবুল পেয়েছেন ২ হাজার ৯৫০, জাসদের নাদের চৌধুরী ১ হাজার ৪১, এ ওয়াই এম কামরুল ইসলাম ১ হাজার ২১৬, কাজী মো. শহীদুল্লাহ ২ হাজার ৯৬৮, শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ ১৮ হাজার ৫০, শামছুল আলম চৌধুরী ৯৮২, মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ ১ হাজার ৯৫, চৌধুরী ইরাদ আহম্মদ সিদ্দিকী ৯১৫, মো. আনিসুজ্জামান খোকন ৯০০, মো. জামান ভূঞা ১ হাজার ১৪০টি ও শেখ শহিদুজ্জামান ৯২৩টি ভোট পেয়েছেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন
দক্ষিণ সিটির করপোরেশন নির্বাচনে ২০ প্রার্থীর মধ্যে ১৮ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। দক্ষিণ সিটিতে মোট ভোট পড়েছে সংখ্যা ৯ লাখ ৫ হাজার ৪৮৪টি। জামানত রক্ষা করতে হলে তাদের ভোটের প্রয়োজন ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ১৮৬টি ভোট। ২০ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মির্জা আব্বাস মগ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ২ লাখ ৯৪ হাজার ২৯১টি। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী সাঈদ খোকন পেয়েছেন ৫ লাখ ৩৫ হাজার ২৯৬টি ভোট।
যাদের জামানত বাজেয়াপ্ত
যাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে- আবদুর রহমান ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ৭৮৪টি ভোট। এছাড়া এ এস এম আকরাম পেয়েছেন ৬৮২, আবু নাছের মুহাম্মদ মাসুদ হোসাইন ২ হাজার ১৯৭, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আয়ুব হোসেন ৩৫৪টি, এস এম আসাদুজ্জামান রিপন ৯২৮, দিলীপ ভদ্র ৬৬৯, বজলুর রশীদ ফিরোজ ১ হাজার ২৯, মশিউর রহমান ৫০৮, মোহাম্মদ শফি উল্লাহ চৌধুরী ৫১২, হাজি মো. সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন ৪ হাজার ৪১৯, মো. আক্তারুজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লাহ ৩৬২, মো. আবদুল খালেক ৫৫০, মো. গোলাম মাওলা রনি ১ হাজার ৮৮৭, মো. জাহিদুর রহমান ৯৮৮, মো. বাহারানে সুলতান বাহার ৩১২, মো. রেজাউল করিম চৌধুরী ২ হাজার ১৭৩, মো. শহীদুল ইসলাম ১ হাজার ২২৯ ও শাহীন খান ২ হাজার ৭৪ ভোট।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ৮ লাখ ৬৮ হাজার ৬৬৩টি। জামানত রক্ষা করতে হলে প্রার্থীদের ১ লাখ ৮ হাজার ৫৮৩টি ভোট পেতে হবে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দীন ভোট পেয়েছেন ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৩৬১টি ভোট। এছাড়া বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ মনজুর আলম ৩ লাখ ৪ হাজার ৮৩৭টি ভোট পেয়েছেন। কিন্তু বাকি কোনো প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশ ভোট পাননি। ফলে তাদেরও জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।
যাদের জামানত বাজেয়াপ্ত
যারা ন্যূনতম ভোট পানিন এমন প্রার্থীরা হলেন- আরিফ মইনুদ্দীন ১ হাজার ৭৭৪, এম এ মতিন ১১ হাজার ৬৫৫, শফিউল আলম ৬৮০, মো. আবুল কালাম আজাদ ১ হাজার ৩৮৫, মো. আলাউদ্দিন চৌধুরী ২ হাজার ১৫৯, মো. ওয়াজেদ হোসেন ভূইয়া ৯ হাজার ৬৮৬, মো. সোলায়মান আলম শেঠ ৬ হাজার ১৩১, সাইফুদ্দিন আহমেদ রবি ২ হাজার ৬৬১, সাজ্জাদ জোহা ৮৪৩ ও হোসাইন মো. মুজিবুল হক ৪ হাজার ২১৫ ভোট পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে প্রথমে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে এবং এরপর দুপুরে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকী নির্বাচন বর্জন করেন। বিকেলে সিপিবি-বাসদ সমর্থিত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ক্বাফী ও বজলুর রশীদ ফিরোজ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন।