Sylhet Today 24 PRINT

হেফাজতের দাবিতে নির্বাহী আদেশে পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন আনা হয়

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১১ মার্চ, ২০১৭

সরকারের নির্বাহী আদেশে হেফাজতে ইসলামের দাবি অনুযায়ীই 'ধর্মকে অগ্রাধিকার দিয়ে' পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন আনা হয়েছে - একথা বলা হয়েছে বেসরকারি উদ্যোগে করা এক তদন্ত প্রতিবেদনে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারী একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উদ্যোগে তাদের সমমনা পেশাজীবীদের নিয়ে গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিশন শুক্রবার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

তবে হেফাজতে ইসলাম বলেছে, অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে।

"পাঠ্যপুস্তক সংশোধনের ক্ষেত্রে ধর্ম এবং সাম্প্রদায়িকতার প্রভাব এতটাই পড়েছে যে - তার কাছে অন্য সমস্যাগুলো গৌণ হয়ে গেছে" - বলেন জাতীয় নাগরিক কমিশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন।

ঢাকায় শুক্রবার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের অনুষ্ঠান থেকে সাম্প্রদায়িকতার বিষয়গুলো বাদ দিয়ে পাঠ্যপুস্তক দ্রুত সংশোধনের দাবি করা হয়।

পাঠ্যপুস্তকে 'বানান ভুল', 'বিভ্রান্তিকর তথ্য বা ভুল তথ্য' এবং 'সাম্প্রদায়িকতা', এই তিনটি সমস্যাকে চিহ্নিত করা হয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনে। তবে বাংলা বইয়ে 'ধর্ম এবং সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব বেশি পড়েছে' বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থিদের জন্য এ বছর প্রকাশিত ৭৮টি বইতেই চিহ্নিত এই তিনটি সমস্যা পেয়েছেন বলে বলছেন তদন্তকারীরা।

কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের দাবির সাথে পাঠ্যপুস্তকে আনা সংশোধনীর কোথায় মিল আছে, তাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়।

মুনতাসীর মামুন আরও বলেন, "মুল সমস্যা হচ্ছে সাম্প্রদায়িকীকরণ। যেমন তারা বলছে, হিন্দু লেখকদের বাদ দিতে হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা সোনার মন্দিরে বাদ দিতে হবে। "
"হুমায়ুন আজাদের লেখা বই নামের কবিতা বাদ দেয়া হয়েছে। এটি নাকি কোরান নিয়ে লেখা হয়েছে। কিন্তু আসলে তা সঠিক নয়। এসবের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক শক্তি কৌশলে একটা আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে" - বলেন অধ্যাপক মামুন।

হেফাজতের দাবি অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তক সংশোধন করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, সেখানে সরকার এবং হেফাজতের মধ্যে একটা 'সমঝোতার' কথাও উঠছে। জাতীয় নাগরিক কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনেও এই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

তবে এ নিয়ে সরকার এবং হেফাজতের যারা কথা বলছেন, তাঁরা বক্তব্য তুলে ধরছেন কৌশলে।

হেফাজতে ইসলাম এর যুগ্ম আহবায়ক মুফতি ফয়জুল্লাহ বলছিলেন, "এ দাবি শুধু হেফাজতের দাবি নয়। এটা ছিল সারাদেশের মানুষের । সরকার দেশের মানুষের অনুভুতিকে শ্রদ্ধা করে পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ করেছে। "

তিনি আরও বলেন, "পাঠ্য বইয়ে কবিতা, নিবন্ধ, গল্প বা অন্য বিষয় ইসলামবিদ্বেষী হোক, একটা মহল তা চাইছে বলে তাঁরা মনে করেন। "

এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, পাঠ্যপুস্তক নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগে ব্যাপারে গঠিত সরকারি তদন্ত কমিটির রিপোর্ট তাঁরা পেয়েছেন। সেটি তাঁরা পর্যালোচনা করে দেখছেন।
পাঠ্যপুস্তক সংশোধনীর এই ইস্যু নিয়ে সরকার ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছে। সরকারের কাছেরই অনেক সংগঠন প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে।

জাতীয় নাগরিক কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদকেও আলোচনায় অংশ নিতে দেখা যায়।
তিনি মনে করেন, পাঠ্যবইয়ে এ ধরণের সংশোধনীর কারণে নতুন প্রজন্ম শিশু বয়স থেকেই সাম্প্রদায়িক চিন্তা নিয়ে গড়ে উঠবে। ফলে যত দ্রুত সম্ভব সাম্প্রদায়িক বিষয়গুলো দ্রুত বদলানো উচিত বরে তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্র : বিবিসি বাংলা

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.