সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৪ মার্চ, ২০১৭
ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে আদালতের এজলাসে আসামি হাজির করা যাবে না বলে আদেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। তবে কারাগার থেকে আদালতে আসামি আনা-নেওয়ার সময় নিরাপত্তার স্বার্থে ডাণ্ডাবেড়ি পরানো যাবে।
সোমবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাই কোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।
একইসঙ্গে চার আসামিকে ডাণ্ডবেড়ি পরানোর ঘটনায় নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করায় ডিআইজি (প্রিজন) মো. তৌহিদুল ইসলামকে সতর্ক করেছে হাই কোর্ট।
সকালে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হাই কোর্টে আসেন ডিআইজি (প্রিজন) মো. তৌহিদুল ইসলাম ও জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক জাহাঙ্গীর কবির।
পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আদালতে ব্যাখ্যা দিয়েছি। বলেছি, যে যাদের ডাণ্ডাবেড়ি পরানো হয়েছিল তারা সবাই জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন (জেএমবি) সদস্য ছিলেন।
“আইন অনুযায়ী পুলিশের চাহিদার ভিত্তিতেই যে কোনো আদালতে আমরা আসামিকে ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে পাঠাই। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তখন আদালত বলেছেন, ভবিষ্যতে আসামিকে ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে আর আদালত কক্ষে পাঠানো যাবে না। আমরা আদালতের নির্দেশনা মেনে চলব।”
গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিচার শেষ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকা ১০ আসামির জামিন প্রশ্নে রুল জারি করে হাই কোর্ট।
২৩ ফেব্রুয়ারি ১০ আসামিকে নির্দেশনা অনুযায়ী আদালতে হাজির করা হয়। এর মধ্যে হাবিবুর রহমান ওরফে ইসমাইল, মনিরুজ্জামান ওরফে মুন্না, নাসির উদ্দিন ও গিয়াস উদ্দিনকে ডাণ্ডাবেড়ি পরানো হয়েছিল।
এই চারজনকে ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে হাজির করার ঘটনায় ডিআইজিকে (প্রিজন) গত ৯ মার্চ আদালতে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছিল।
কিন্তু ওইদিন ডিআইজি (প্রিজন) দেশের বাইরে থাকায় তার পক্ষে আদালতে লিখিত ব্যাখ্যা দেন ঢাকার সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির।
ওইদিনের ব্যাখ্যাতেও বলা হয়েছিল, চার আসামির সবাই জেএমবির সদস্য হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের ডাণ্ডাবেড়ি পরানো হয়েছিল।
দীর্ঘদিন কারাগারে থাকা আসামিদের বিষয়টি আদালতের নজরে আনা লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী সৈয়দা সাবিনা আহমেদ মলি সাংবাদিকদের বলেন, “চার বছর আগেই ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে আসামিকে আদালতে হাজির করানো যাবে না মর্মে হাই কোর্ট রায় দিয়েছিলেন। রায়ের বিষয়টি অবগত নন বলে আদালতকে জানিয়েছেন ডিআইজি প্রিজন।”