সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৪ মার্চ, ২০১৭
ফেসবুক একাউন্ট খুলতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অথবা পাসপোর্টের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা সহ বাংলাদেশ পুলিশ ও ফেসবুকের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক সাক্ষরের বিষয়ে পুলিশের প্রস্তাবে রাজি হয় নি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক।
দক্ষিণ এশিয়ার ১৪টি দেশের ৫৮ জন পুলিশ কর্মকর্তার অংশগ্রহণে পুলিশ-প্রধানদের তিনদিনব্যাপী সম্মেলন শেষে পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহিদুল হক জানিয়েছেন, ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সাথে তারা একটি সমঝোতায় স্বাক্ষর করতে চাইলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাতে রাজী হয়নি।
ইন্টারপোল ও বাংলাদেশ পুলিশের যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ সম্মেলনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং ফেসবুকের একজন প্রতিনিধিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সম্মেলন রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে গত রোববার শুরু হয়ে মঙ্গলবার শেষ হয়।
সম্মেলনে ইন্টারপোলের সেক্রেটারি জেনারেল উপস্থিত ছিলেন। আরও ছিলেন আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ভুটান, ব্রুনাই, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, নেপাল, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও ভিয়েতনামের প্রতিনিধিরা। এছাড়া ফেসবুক ও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই), যুক্তরাষ্ট্রের আইজিসিআই, আসিয়ানপোল ইত্যাদি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মোট ৫৮জন বিদেশি অংশগ্রহণ করেন।
শহিদুল হক সম্মেলনের শেষ দিন জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে এ দেশে জঙ্গিবাদ বিস্তার লাভ করায় সম্মেলনে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে চুক্তির প্রস্তাব দিলেও আইনের বাধ্যবাধকতা থাকায় তাতে স্বাক্ষর করে করতে অস্বীকার করে সংস্থাটি।
পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম তাদের (ফেসবুক) সঙ্গে একটা এমওইউ (সমঝোতা স্মারক) করতে, কিন্তু তাদের নীতিমালায় কোনো দেশের সঙ্গে এমওইউ করে না। তারা এমওইউ করতে সম্মত হয়নি।’
তবে ফেসবুক বলছে একটা ফোকাল পয়েন্ট নিয়োগ করেন। আপনাদের সাথে আমাদের ডাইরেক্ট যোগাযোগ হবে, জানান শহিদুল হক।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা এক যৌথ বিবৃতিতে সাক্ষর করেন। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন, আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র ডেপুটি মিনিস্টার আব্দুল রহমান, অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশের সিনিয়র লিঁয়াজো অফিসার স্টুয়ার্ট ডেভিড অ্যালেন, রয়্যাল ভুটান পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ প্রধান নিংরা ওয়াংদি ও রয়্যাল ব্রুনাই পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হাসান আহমেদ।
বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পুলিশের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করে সহিংসতা ও সীমান্তে সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন করা হবে। এজন্য পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
‘চিফ অব পুলিশ কনফারেন্স অব সাউথ এশিয়া অ্যান্ড নেইবারিং কান্ট্রিজ অন রিজিওনাল কো-অপারেশন ইন কার্ভিং ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম’ শীর্ষক এই সম্মেলনে আরও বলা হয়, চারটি উদ্দেশ্যে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সন্ত্রাস দমনের লক্ষ্যে নিজেদের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়ন এবং অন্যান্য দেশের নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি, সীমান্তে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সহিংসতা রোধে সম্মিলিত কৌশল তৈরি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাঝে তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্র তৈরি করা, সন্ত্রাস মোকাবিলায় একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্মে সবাইকে একত্রিত করা।
সম্মেলনে কাউন্টার ভায়োলেন্ট টেরোরিজম, মানব পাচার, মাদক চোরাচালান, অস্ত্র পাচার বিষয়ক অপরাধের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
শেষ দিনে বিভিন্ন দেশের পুলিশ প্রতিনিধি, বাংলাদেশ পুলিশ ও ইন্টারপোল একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এজন্য সন্ত্রাস মোকাবিলায় সবাই একই কৌশল অবলম্বন করবেন বলে জানান। এনসিবি ও ইন্টারপোলের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হবেও বলেও সম্মেলনে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
এছাড়া ইন্টারপোলের আওতায় এই অঞ্চলের পুলিশ প্রধানদের নিয়ে একটি ফোরাম গঠন করার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সন্ত্রাস দমনে তথ্য আদান-প্রদানসহ সব ধরনের সহযোগিতার জন্য একটি প্রযুক্তিগত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। এই আইটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই বিভিন্ন দেশ তাদের সীমান্তে সংঘটিত অপরাধ থামাতে তথ্য সরবরাহ করবে। নিজেদের মধ্যে ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাব ও প্রশিক্ষণেরও সুবিধা দেওয়ার ব্যাপারেও একমত হয়েছে অংশ নেওয়া দেশগুলো।