Sylhet Today 24 PRINT

ক্ষুদ্রঋণের ছোবল: কিস্তি শোধ না করায় নারী দিনমজুরের ঘর ভেঙে নিল ‘আশা’

সিলেটটুডে ডেস্ক  |  ০২ মে, ২০১৫

ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে দিন বদলের স্বপ্ন দেখেছিলেন মাদারীপুরের নাছিমা বেগম। সেই স্বপ্ন তো পূরণ হয়ই নি উল্টো নিজের গৃহটিও হারালেন তিনি।

ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় এই নারী দিনমজুরের বসতঘর বিক্রি করে  দিয়েছে ক্ষুদ্র ঋণদাতা বেসরকারি সংস্থা আশা। নাছিমা বেগমের  অভিযোগ, কিস্তি শোধ করতে না পারায় আশার স্থানীয় কর্মকর্তারা জোর করে তার ঘর বিক্রি করে দিয়েছেন। কাচারিকান্দি গ্রামের আলি খার স্ত্রী নাছিমা বেগম আশার সমিতিরহাট শাখা থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। তবে আশার কর্মকর্তাদের দাবি, কিস্তি দিতে না পেরে ওই পরিবারই তাদের কাছে ঘর বিক্রি করেছে।

শনিবার দুপুরে কালকিনিতে উপজেলার এনায়েতনগর এলাকার কাচারিকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বসতঘর ভেঙে নেওয়ায় স্কুলপড়ুয়া মেয়েসহ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে অসহায় এ পরিবার।

নাছিমার মেয়ে লিমা স্থানীয় এনায়েতনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। কিস্তির টাকা পেতে বিভিন্ন সময়ে এনজিওটির কর্মকর্তারা লিমার স্কুলে গিয়েও নানা ‘মানহানিকর মন্তব্য’ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

লিমা লেন, “মায়ের ঋণের কারণে এনজিওকর্মীরা কিস্তির টাকার জন্য বিভিন্ন সময়ে আমার স্কুলে গিয়ে অন্য ছাত্র/ছাত্রীদের মধ্যে বসে সম্মানহানিকর কথা বলে। আর সন্ধ্যার পরে আমাদের ঘরে এসে বসে থাকে।”

ঋণগ্রস্ত নাছিমা বেগম  বলেন, “কিস্তির টাকা দিতে না পারায় এনজিওর লোকজন একজন লোক এনে বলে তোমাদের থাকার ঘর ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তারা ঘর ভেঙে নেয়। এখন কোথায় গিয়ে থাকব তা জানি না।”

ঋণের পুরো ১৫ হাজার টাকায় বাড়ি বিক্রির কথা জানালেও এনজিওটি নাছিমার দেওয়া চারটি কিস্তির টাকা ফেরত দেয়নি বলে অভিযোগ করেন এই নারী।

এব্যাপারে আশার সমিতিরহাট শাখার ব্যবস্থাপক আব্দুর রউফ বলেন, “ঋণের কিস্তির টাকা শোধ করতে না পারায় ওই পরিবারটিই ঘর বিক্রি করেছে। আমরা শুধু ক্রেতা ঠিক করে দিয়েছি।”ই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি আশার সমিতিরহাট শাখা থেকে ১৫ হাজার টাকা ঋণ নেন নাছিমা। ঋণের চারটির পর আর কিস্তি দিতে না পারায় এনজিওর কর্মকর্তারা ওই পরিবারের ওপর নানাভাবে চাপপ্রয়োগ করে।

বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংক, আশাসহ বেশ কয়েকটি এনজিও ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে থাকে। ড. ইউনূস আবিষ্কৃত ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থা দারিদ্র বিমোচনে ভূমিকা রাখার জন্য শান্তির জন্য নোবেল পুরষ্কার পায় গ্রামীন ব্যাংক, সেই সাথে নোবেল পান ইউনূস নিজেও। ড. ইউনূস এরপর ঘোষণা দেন, এই ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই দারিদ্রকে যাদুঘরে পাঠানো হবে। তবে এই ব্যবস্থায় ঋণ গৃহতাদের মাঝে নানান নিরাক্ষা চালিয়ে একাধিক বিশ্লেষক প্রমাণ করেন দারিদ্র বিমোচনে বরং বড় অন্তরায় এই ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থা। 

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.