নিউজ ডেস্ক | ০৯ জানুয়ারী, ২০১৫
একদিকে অবরোধ অন্যদিকে লাখো
মুসল্লির বিশ্ব ইজতেমামুখি স্রোত, রাস্তায়-রাস্তায় অবরোধকারিদের বাঁধা তবু
মুসল্লিরা শেষ পর্যন্ত পৌঁছেছেন টঙ্গীর তুরাগ তীরে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, অবরোধ কোন
কিছুই থামাতে পারেনি মুসল্লিদের, ফলে আবারও দেশ-বিদেশের লাখো মানুষ সমবেত হয়েছে, বিশ্ব ইজতেমাস্থলে।
অবরোধের এই ভোগান্তির
মধ্যেও ৯ জানুয়ারি শুক্রবার বাদ ফজর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে
বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। ১১ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এই পর্ব,
দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ১৬ জানুয়ারি।
হজের পর এই বিশ্ব ইজতেমাকে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম
সমাবেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে তাবলিগ জামায়াত
কর্তৃপক্ষ ২০১১ সাল থেকে দু'পর্বে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করে আসছে।
এবার ইজতেমার প্রথম ধাপে ৩৩টি জেলার মুসল্লিরা ৪০টি খিত্তায়
অবস্থান করছেন। আয়োজক কমিটি জানায়, বিভিন্ন জেলার মুসল্লিদের নিজেদের খিত্তার
নম্বর অনুযায়ী অবস্থান নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। খিত্তা ১ ও ২ গাজীপুর জেলা, ৩-১৩ ঢাকা জেলা, ১৪ সিরাজগঞ্জ, ১৫ নরসিংদী, ১৬ ফরিদপুর, ১৭
রাজবাড়ী, ১৮ শরীয়তপুর, ১৯ কিশোরগঞ্জ-১,
২০ নাটোর, ২১ রংপুর, ২২
শেরপুর, ২৩ রাজশাহী, ২৪ জয়পুরহাট,
২৫ গাইবান্ধা, ২৬ লালমনিরহাট, ২৭ হবিগঞ্জ, ২৮ দিনাজপুর, ২৯
সিলেট, ৩০ চাঁদপুর ৩১ ফেনী, ৩২
চট্টগ্রাম, ৩৩ বান্দরবান, খাগড়াছড়ি,
রাঙামাটি, ৩৪ বাগেরহাট, ৩৫
নড়াইল, ৩৬ চুয়াডাঙ্গা, ৩৭ যশোর,
৩৮ ভোলা, ৩৯ বরগুনা, ৪০
ঝালকাঠি।
ঢাকা ও গাজীপুর জেলা প্রশাসনও মুসল্লিদের
জন্য পাঁচ স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ের ব্যবস্থা করেছে। গাজীপুর জেলা
প্রশাসকের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, ইজতেমা মাঠ ও আশপাশের এলাকাকে ৫টি অঞ্চলে
ভাগ করে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রতিদিন দুই শিফটে ১০টি করে
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে র্যাবের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ
নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
অবরোধ কর্মসূচির প্রেক্ষিতে তাবলীগ জামায়াতের
তিন সদস্যের এক প্রতিনিধিদল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ
করলেও বিএনপি অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেনি।
এদিকে গাজীপুর বিএনপির স্থানীয় নেতারা
ইজতেমাকে কেন্দ্র করে অবরোধ স্থগিতের অনুরোধ জানালেও হাইকমাণ্ড তাদের কথায় কর্ণপাত করেনি।