সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৯ মার্চ, ২০১৭
নারায়ণগঞ্জের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে মারধর ও মানহানির অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে স্থানীয় সাংসদ সেলিম ওসমান ও অপু নামে অপর একজনকে আগামী ১৪ মে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বুধবার (২৯ মার্চ) বিকেলে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আরা বেগম এ আদেশ দেন।
গত বছরের ১৩ মে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে তারই স্কুলের প্রাঙ্গণে লাঞ্ছিত করা হয়। এমপির নির্দেশে পরে তাকে স্কুল থেকে বের করে পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়। গণমাধ্যমে ওই ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে এলে গত বছরের ১৮ মে স্বঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
দেশজুড়ে ওই ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচার দাবি করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। স্কুল কর্তৃপক্ষ এর মধ্যেই শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে চাকরিচ্যুত করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠে।
আদালতের নির্দেশে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ একটি প্রতিবেদন দাখিল করলেও 'সেলিম ওসমানকে ছাড় দিয়ে দায়সারা' ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে ১০ আগস্ট বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে শ্যামল কান্তিকে কানধরে উঠবোসের ঘটনায় সেলিম ওসমান জড়িত কি না-তা খতিয়ে দেখতে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমকে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।
গত ১৯ জানুয়ারি নির্দেশনা অনুযায়ী হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম শেখ হাফিজুর রহমান।
ওই প্রতিবেদনে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমানের নির্দেশেই লাঞ্ছনা করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়। শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগেরও সত্যতা মেলেনি বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।