সিলেটটুডে ডেস্ক | ৩১ মার্চ, ২০১৭
সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার আতিয়া মহলে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চলাকালে বাহিরে বোমা বিস্ফোরণে আহত র্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে চিকিৎসকরা আজাদকে মৃত ঘোষণা করেন। কর্নেল আজাদের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন র্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়ার পর তা ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরদিন শুক্রবার ঢাকা থেকে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম, সোয়াট ও র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে যান। প্রায় ৩০ ঘণ্টা ওই বাড়ি ঘিরে রাখার পর শনিবার সকালে অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল। ওই বাড়িতে আটকে থাকা বিভিন্ন ফ্ল্যাটের ৭৮ জন বাসিন্দাকে উদ্ধার করে তারা।
শিববাড়ির আতিয়া মহলে সেনাবাহিনীর প্যারাকমান্ডোর নেতৃত্বে অভিযান চলাকালে গত শনিবার সন্ধ্যার পর অভিযান সম্পর্কে সেনাবাহিনীর ব্রিফিংয়ের পর পাঠানপাড়া এলাকায় দুই দফা বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন এই র্যাব কর্মকর্তা। ওই দুই বিস্ফোরণে পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিহত হন ৬ জন।
আহত র্যাব কর্মকর্তা আজাদকে প্রথমে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার সিএমএইচে নেওয়ার পরদিন সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।
সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল আজাদকে। দুদিন পর চিকিৎসকদের পরামর্শেই তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয় বলে মুফতি মাহমুদ জানিয়েছিলেন।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা আনার পর ফের সিএমএইচে নেওয়া হয় তাঁকে। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ১৯৭৫ সালের ৩০ অক্টোবর চাঁপাইনবাবগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর আজাদ ৩৪তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কমিশন লাভ করেন।
এরপর তিনি ৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে আইও, অ্যাডজুটেন্ট এবং কোয়ার্টার মাস্টারসহ নানা দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সেনাসদর, ১ প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন এবং ১৯ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১১ সালের ২৬ অক্টোবর র্যাব-১২ এর একজন কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে এলিট ফোর্স র্যাবে আসেন তিনি। ওই বছর শেষেই তিনি র্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে যোগ দেন। দুই বছর উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালক হন মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ।