Sylhet Today 24 PRINT

ব্লগার রাজীব হত্যায় দু’জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

সিলেটটুডে ডেস্ক  |  ০২ এপ্রিল, ২০১৭

গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্টের আপিল বিভাগ। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আসামিদের আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়ে রোববার (২ এপ্রিল) বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের বেঞ্চ আগের রায় বহাল রাখলেন।

মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া রায়ে দুজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসীমউদ্দীন রাহমানীসহ অন্য ছয় আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ঢাকার তিন নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহম্মেদ রায়ে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র পলাতক রেদোয়ানুল আজাদ রানা ও ফয়সাল বিন নাঈম দীপের ফাঁসির আদেশ দেন। বাকি আসামিদের মধ্যে মাকসুদুল হাসান অনিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বাকি পাঁচ জনের মধ্যে এহসান রেজা রুম্মান, নাঈম ইরাদ ও নাফিজ ইমতিয়াজকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডসহ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মুফতি মো. জসীমউদ্দিন রাহমানীকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডসহ দুই হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও  দুমাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারক।

মামলাটির রায়ের জন্য রবিবার (২ এপ্রিল) দিন নির্ধারণ করে দেওয়ার সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির সাংবাদিকদের বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদন ও আসামিদের আপিলের পাশাপাশি ব্লগার রাজিবের বাবা ডা. নাজিম উদ্দিন আসামিদের শাস্তি বৃদ্ধির জন্য শাস্তি পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছেন।’ ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুরের কালশীতে বাড়ির কাছে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রাজীবকে।

বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুজনের মধ্যে রানা পলাতক থাকায় আপিল করার সুযোগ পাননি। হাইকোর্টে এ মামলার শুনানি শেষ হয়ে যাওয়ার পর গত ২০ ফেব্রুয়ারি পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে রানাকে গ্রেপ্তার করে।

আসামিদের শাস্তি বহাল থাকবে আশা প্রকাশ করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল বলেন, ‘রানা ছাড়া বাকি সাত আসামিই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল। যুক্তিতর্কে শাস্তি বহাল রাখার দাবি জানানো হয়েছে ।’

রায়ের পর গত বছরের ১৭ জানুয়ারি হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স আসে। সাজা বাড়াতে ক্রিমিনাল রিভিশন আবেদন জানান রাজীবের বাবা। পরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ফয়সালসহ সাতজন আপিল ও জেল আপিল করেন। গ্রেপ্তারের পর মামলাটি বাতিল চেয়ে রানার করা আপিলটি ছিল অন্য আদালতে, যার শুনানিও এ আদালতেই নেওয়া হয়েছে।

বিচারিক আদালতের রায়ে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকরের জন্য উচ্চ আদালতের অনুমোদন লাগে। আর এ অনুমোদনই মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণ বা ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে পরিচিত।

পরে প্রধান বিচারপতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলার পেপারবুক প্রস্তুতের নির্দেশ দেন। এ নির্দেশের পর পেপারবুক ছাপানোর জন্য সরকারি ছাপাখানায় পাঠানো হয়

মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, জব্দ তালিকা, ময়না তদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষীদের জবানবন্দি, জেরা ও বিচারিক আদালতের রায়ের সমন্বয়ই হচ্ছে পেপারবুক। ৯২০ পৃষ্ঠার পেপারবুক প্রস্তুতের পর গত বছরের মাঝামাঝিতে ছাপাখানা থেকে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

গত বছরের ০৭ নভেম্বর এ মামলার সাত আসামির আপিল ও জেল আপিল, মামলা বাতিলে রানার আপিল, ডেথ রেফারেন্স ও ক্রিমিনাল রিভিশনের শুনানি একসঙ্গে শুরু হয়।  আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল হক সেলিম ও বিলকিস ফাতেমা। আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান, মোশাররফ হোসেন কাজল ও মো. আহসান উল্লাহ ।

গত ০৯ জানুয়ারি শুনানি শেষে যেকোনো দিন দেওয়া হবে জানিয়ে রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন হাইকোর্ট। পরে গত ২৭ মার্চ রায়ের দিন জানান এ আদালত।

২০১৪ সালের ২৮ জানুয়ারি এ মামলার অভিযোগপত্রে নিষিদ্ধ জঙ্গি দল আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসীমউদ্দীন রাহমানী এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত ছাত্রকে আসামি করা হয়। ওই বছরের ১৮ মার্চ অভিযোগ গঠন করে তাদের বিচার শুরু করে আদালত।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.