সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৩ এপ্রিল, ২০১৭
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক। ফাইল ছবি
নিজ এলাকায় দলীয় প্রতিরোধের মুখে পড়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হক। তার আগমন ঠেকাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে হরতাল ডাকা হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ঘোষণা দিয়েছে মন্ত্রীর আগমন ঠেকাতে তারা ২০ হাজার লোক জড়ো করবে। এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৪টি উপজেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সাংসদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সাংসদ র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর মধ্যে চলা বিরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। উপজেলা চারটি হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, বিজয়নগর, সরাইল ও আশুগঞ্জ।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশৃঙ্খলা এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
রোববার (২৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে বিজয়নগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছায়েদুল হকের যোগ দেওয়ার কথা। বিকেলে উপজেলার চম্পকনগরে সুধী সমাবেশে মন্ত্রীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কর্মসূচি রয়েছে।
মন্ত্রীর আগমন ঠেকাতে বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগ কাল সকাল-সন্ধ্যা সেখানে হরতাল ডেকেছে। অন্তত ২০ হাজার মানুষ মন্ত্রীর আগমন ঠেকাতে রাজপথে অবস্থান নেবে বলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন। এদিকে সরকারি অনুষ্ঠান যেকোনো মূল্যে করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মন্ত্রীর সমর্থকরা।
মন্ত্রীর সফরের দুদিন আগে গত শুক্রবার বিজয়নগরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার ওপর হামলা চালায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা কর্মকর্তার মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে যায়। অফিস কক্ষ তছনছ করে। পরে অফিস থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের নামফলক ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। শুক্রবারের ঘটনার পর থেকে গোটা এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শনিবার বিকালে ভাঙচুরের ঘটনায় ১২০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে বিজয়নগর থানায় মামলা দায়ের করেন উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা লুৎফর রহমান।
বিজয়নগরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শনিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। এতে র্যাব-পুলিশ-বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার, বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট তানভীর ভূঁইয়াসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব কিছুই করা হবে।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, হরতালের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে থাকবেন। তিনি জানান, বিজয়নগরে দুই প্লাটুন বিজিবি, ৫ সেকশন র্যাব, এপিবিএন সদস্যসহ বাড়তি ১৫০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংবাদ সম্মেলন করে মন্ত্রীর অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দেয়।
গত অক্টোবরে ফেসবুকে ইসলাম ধর্মকে অবমাননার কথিত অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটে। ওই সময় মন্ত্রী ছায়েদুলের ভূমিকা দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার তিন দিন পর নিজ এলাকা পরিদর্শনে যান মন্ত্রী ছায়েদুল। ওই সময় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তিনি "মালাউন" নামেও কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও পরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। মন্ত্রী অভিযোগ করে বলছিলেন, নাসিরনগরকে বিশ্বসংবাদে পরিণত করার নায়ক মোকতাদির চৌধুরী। হিন্দু পল্লীতে হামলার দায় মোকতাদির চৌধুরীকেই নিতে হবে।