সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৪ এপ্রিল, ২০১৭
সাত জেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের বিপর্যয়কে 'জাতীয় দুর্যোগ' ঘোষণা করে হাওরবাসীকে রক্ষায় ১০ দফা দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজন।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে 'হাওরের মহাবিপর্যয়ে উদ্বিগ্ন নাগরিকবৃন্দ'র এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর অঞ্চলের কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা এবং এ জন্য ২৪ লাখ কৃষকের মধ্য থেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার জনকে কীভাবে বাছাই করা হলো- তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল, লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী, গবেষক স্বপন আদনান, সংস্কৃতিকর্মী মাহমুদ সেলিম, আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ূয়া, সংস্কৃতিকর্মী কফিল আহমেদ প্রমুখ।
হাওরের সাম্প্রতিক বিপর্যয়কে মানবসৃষ্ট দাবি করে মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেন, ক্ষমতা নিয়ে যথেচ্ছাচারের কারণেই হাওরে মহাবিপর্যয় ঘটেছে। হাওর অঞ্চলকে জাতীয় দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, হাওরে ২৪ লাখ কৃষক বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল। তাদের সব ধান তলিয়ে গেছে। তাদের সবার জন্য সহযোগিতা দরকার। কিন্তু সরকার তাদের মধ্য থেকে তিন লাখ ৩০ হাজার কৃষক পরিবারকে কীভাবে নির্বাচন করে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সুলতানা কামাল বলেন, এখানেও দুর্নীতির গন্ধ রয়েছে। এই বরাদ্দকে হাওরবাসীর সঙ্গে সরকারের প্রহসন হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম। অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে- ২৪ লাখ কৃষককে খাদ্য সহায়তা দেওয়া, হাওরে রেশনিং ব্যবস্থা চালু, সরকারি-বেসরকারি সব ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ ও বিনা সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ, জলমহালের ইজারা বাতিল করে উন্মুক্ত জলাশয়ে সবার মাছ ধরার অধিকার দেওয়া, হাওরের পরিবেশ দূষণের প্রকৃত কারণ নির্ণয়, বাঁধ নির্মাণে জড়িত দুর্নীতিবাজদের শাস্তির ব্যবস্থা ইত্যাদি।
বক্তারা বলেন, আগাম বন্যায় হাওর অঞ্চলে মহাবিপর্যয় নেমে এসেছে। গত ২৯ মার্চ থেকে শুরু হয়ে এ পর্যন্ত কৃষকের চোখের সামনে হাওরাঞ্চলের সাত জেলায় প্রায় ৮০ ভাগ ফসল তলিয়ে গেছে এবং মাছে মড়ক লেগে মৎস্য সম্পদেরও বিপুল ক্ষতিসাধন হয়েছে। এ অবস্থায় হাওর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোকে 'জাতীয় দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল' ঘোষণা করে হাওরবাসীকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। নয়তো ওই সাত জেলায় কৃষক ও মৎস্য চাষিরা আর্থিক বিপর্যয়ে শহরমুখী হতে বাধ্য হবেন।
সৈয়দ আবুল মকসুদ হাওরে বিপর্যয়ের ঘটনা তদন্তে নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানান।
হাওরবাসীর জন্য এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ও পাঁচ হাজার কোটি টাকা দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়ার দাবি জানিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সরকারের ভেতরে যে জেগে ঘুমিয়ে থাকার মনোভাব আছে, তা দূর করতে হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে কারও দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শনেরও আহ্বান জানান তিনি।