সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৪ মে, ২০১৭
গত মার্চে মেলানিয়া ট্রাম্পের কাছ থেকে পুরষ্কার গ্রহণ করেন শারমিন
বাল্যবিবাহে বাধ্য করতে পরিবারের প্রচেষ্টাকে রুখে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উইমেন অব কারেজ পুরস্কার জেতা বাংলাদেশি তরুণী শারমিন আকতার এসএসসিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন। শারমিনের বাড়ি ঝালকাঠিতে। তিনি ঝালকাঠির রাজাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৪.৩২ পেয়েছেন।
এবছরের ৩০ মার্চ মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের কাছ থেকে এ সম্মাননা ক্রেস্ট নেন শারমিন আকতার। সাহসিকতা ও অদম্য ইচ্ছার স্বীকৃতি হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের 'ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ- ২০১৭' পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন তিনি। সারা বিশ্বে শান্তি ন্যায় বিচার, মানবাধিকার, লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নের পক্ষে কাজ করার স্বীকৃতি হিসাবে ১৩ জন নারীকে এবার এ পুরস্কার দেয়া হয়।
২০০৭ সাল থেকে এই উইমেন অব কারেজ পুরস্কার শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের ৬০টি দেশের ১০০ নারীকে এ পুরস্কার দেওয়া হল।
শিক্ষাজীবন শেষ করে আইনজীবী হতে চান শারমিন। পাশে দাড়াতে চান অসহায় নারীদের। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে শারমিন আকতার বলেন, 'আমার এসএসসি পরীক্ষাই দেয়া হত না, যদি না আমি মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করতাম। পরীক্ষার ফলাফল যা হোকনা কেন হাসি মুখে মেনে নেবো। তবে আমার ওপর নির্যাতন নেমে না আসলে অনেক ভাল করতাম।'
শারমিনের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী গোলাম মোস্তফা জানান, নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০১৫ সালের আগস্টে ৩২ বছরের এক পাত্রের সঙ্গে শারমিনের বিয়ে ঠিক করেন তার মা। বিয়েতে রাজী না থাকায় তার ওপর নির্যাতন করতেন মা ও সেই পাত্র। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এক সহপাঠীর সহযোগিতায় রাজাপুর থানায় মা ও পাত্রের বিরুদ্ধে মামলা করেন শারমিন।
এ বছর এই পুরস্কার পাওয়া অন্যান্য নারীরা হচ্ছেন বতসোয়ানার মালেবোগো মালেফে, কলম্বিয়ার নাতালিয়া পংক দে লিওন, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রেবেকা কাবুঘো, ইরাকের জান্নাত আল ঘেজি, নাইজেরের মেজর আইচাতো ইসাকা ওউসমান, পাপুয়া নিউ গিনির ভেরোনিকা সিমোগুন, পেরুর সিন্ডি আরলেত্তে কন্ট্রেরাস বাতিস্তা, শ্রী লংকার সান্দিয়া একনেলিগোদা, সিরিয়ার সিস্টার ক্যারোলিন তাহান ফ্যাচাখ, তুরস্কের সাদেত ওজকান এবং ভিয়েতনামের নাগুয়েন নগোচ নু কুইন।