নিজস্ব প্রতিবেদক | ১২ মে, ২০১৭
বনানীতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি শাফাত আহমেদকে ৬ দিন ও তার সহযোগী সাদমান সাকিফকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তার করা রিমান্ড আবেদনের শুনানি করে ঢাকার মহানগর হাকিম রায়হানুল ইসলাম শুক্রবার এই আদেশ দেন।
রিমান্ডের আবেদন পত্রে আরও বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আসামিরা দুশ্চরিত্র। ইতোপূর্বে একইভাবে সরলমনা অনেক মেয়েকে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে নিয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। তাই মামলার রহস্য উদঘাটনসহ এজাহার নামীয় আসামিদের নাম ও ঠিকানা সংগ্রহের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন। আসামিদের রিমান্ডে পেলে নিবিড়ভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে অন্যান্য পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করার সম্ভাবনা রয়েছে। আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে পালিয়ে যেতে পারে।
এরআগে বৃহস্পতিবার সিলেটের পাঠানটুলাস্থ একটি বাসা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তরের একটি দল, সিলেট মহানগর পুলিশ ও সিলেট জেলা পুলিশের যৌথ দল তাদেরকে গ্রেপ্তার করে।
এরপর তাদেরকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করে বলে জানায় পুলিশ।
উল্লেখ্য, ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে গত ৬ মে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন দুই তরুণী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৮ মার্চ পূর্বপরিচিত শাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওই দুই তরুণীকে জন্মদিনের দাওয়াত দেয়। এরপর তাদের বনানীর ‘কে’ ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে রেইনট্রি নামের হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ করে শাফাত ও নাঈম। এ ঘটনা সাফাতের গাড়িচালক বিল্লালকে দিয়ে ভিডিও করানো হয় বলেও উল্লেখ করা হয় এজাহারে।
ধর্ষণ মামলার আসামিরা হলো- শাফাত আহমদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ।