নিউজ ডেস্ক | ১০ মে, ২০১৫
পহেলা বৈশাখ বর্ষবরণের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারীদের ওপর ব্যপকভাবে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে ছাত্র ইউনিয়নের ‘ডিএমপি’ কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে ব্যাপকভাবে পিটিয়ে, টিয়ারসেল ও জলকামান ব্যবহার করে পণ্ড করে দিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের পিটুনিতে আহত অন্তত দশজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ছাত্র ইউনিয়নের দাবি এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।
পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনারের কার্যালয়ের দিকে যাত্রা করেন। পথে একাধিক স্থানে বাধা পেলেও দুপুর ১টার দিকে তারা মিন্টো রোডে ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের কাছে পৌঁছান।
জানা যায়, মিন্টো রোডের মোড়ে মিছিলকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড দিয়ে বাধা দেয়। প্রতিবাদকারীরা তা অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশের ব্যাপক পিটুনির শিকার হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।
এ সময় পুলিশ মিছিলকারীদের লাঠিপেটা শুরু করলে আন্দোলনকারীরা ঢিল ছুড়ে জবাব দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশ টিয়ার শেল ও জলকামান ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হাসান তারিক বলেন- পুলিশ দোয়েল চত্বরে, হাই কোর্টের উল্টো পাশে তাদের দুই দফা বাধা দেয়। শেষপর্যন্ত সার্কিট হাউস অফিসার্স ক্লাবের এর উল্টো পাশে আশিয়ান সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টার এলাকায় লাঠিপেটা করে নেতাকরামীদের সরিয়ে দেয়।
এতে তিনি নিজে এবং ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম জিলানী শুভ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি লিটন নন্দী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তন্বয় ধর, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক সুমন সেন গুপ্তসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তারিক।
এদিকে মিছিলকারীদের ঢিলে ছয়জন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন রমনা থানার ওসি মসিউর রহমান। এরা হলেন- এসআই কামরুল, নায়েক জাহিদ, শাহীন, কাজী আরিফ, আলী হোসেন, আরাফাত।
গত পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় একদল যুবক নারীদের যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটায়।
ওই ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় গত বৃহস্পতিবার মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ কার্যালয় ঘেরায়ের এই কর্মসূচি দেয় ছাত্র ইউনিয়ন।
ঘটনার পর থেকেই দোষীদের গ্রেপ্তার ও জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করাতে প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়ে আসছে ছাত্র ইউনিয়ন ও নারী অধিকারকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।