সিলেটটুডে ডেস্ক | ০২ জুলাই, ২০১৭
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার সিটিসেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেহবুব চৌধুরীকে জামিন দিয়েছে আদালত।
রোববার দুপুরে তাকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করার পর তার পক্ষে আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন।
শুনানি শেষে মহানগর হাকিম লস্কর সোহেল রানা মেহবুব চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর করেন বলে দুদকের প্রসিকিউশন বিভাগের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুলফিকার জানিয়েছেন।
আদালতে মেহবুবের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আরশাদুর রউফ, কামরুল ইসলাম শিকদার ও মনিরুল ইসলাম দুলাল। আর জামিনের বিরোধিতা করেন দুদকের আইনজীবী রেজাউল করিম রেজা ও মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জুয়েল।
জামিনের আবেদনে তার আইনজীবীরা বলেন, বৈধভাবেই তিনি ঋণ নিয়েছেন, ঋণের বিপরীতে বন্ধকি জামানত রয়েছে। তিনি এক টাকাও নিজে আত্মসাৎ করেননি। তাছাড়া মামলার এজাহারে যে অপরাধের কথা বলা হয়েছে তা ৪২০ ধারায় হওয়ায় জামিনযোগ্য।
এর আগে শনিবার বিকেলে শ্রীলঙ্কা থেকে দেশে ফেরার পর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়, অভিযুক্তরা অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যায়ভাবে আর্থিক লাভের জন্য প্রতারণা, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে প্যাসিফিক টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিবিটিএল) ব্যাংক গ্যারান্টির আবেদন যাচাই-বাছাই না করেই এবি ব্যাংকের মহাখালী শাখার দেওয়া প্রস্তাব প্রধান কার্যালয়ে পাঠান। পরে তিনজন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সহায়তায় চারটি বোর্ড সভার মাধ্যমে ৩৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার অপরিবর্তনীয় শর্তবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি অনুমোদন করা হয়।
ওই মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মোট ৩৮৩ কোটি ২২ লাখ ৩৬৩ টাকা ১৩ পয়সা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।
ওই মামলায় মেহবুব চৌধুরী ছাড়াও সিটিসেলের অন্যতম মালিক সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খানের পাশাপাশি এ বি ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়।
অন্য আসামিরা হলেন- এবি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার আহমেদ, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম ফজলুর রহমান, সাবেক উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ক্রেডিট) ও বর্তমানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মসিউর রহমান চৌধুরী, ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট সালমা আক্তার, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মহাদেব সরকার সুমন।
এছাড়া ব্যাংকটির এসভিপি ও রিলেশনশিপ ম্যানেজার সৈয়দ ফরহাদ আলম, সাবেক এসভিপি ও রিলেশনশিপ ম্যানেজার আরশাদ মাহমুদ খান ও মো. জাহাঙ্গীর আলম, অপারেশনস বিভাগের সিনিয়র অ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহানুর পারভীন চৌধুরী,
সাবেক এভিপি ও মহাখালী শাখা ব্যবস্থাপক জার ই এলাহী খান এবং রিলেশনশিপ অফিসার মো. কামারুজ্জামানকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে আসামিদের আত্মসাৎ করা অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা এবং সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড হওয়ার বিধান রয়েছে।
দুদকের উপপরিচালক শেখ আবদুস ছালাম রাজধানীর বনানী মডেল থানায় এ মামলা করেন।