Sylhet Today 24 PRINT

ঢাবি ছাত্র নির্যাতন, সেই ওসি হেলালের জেল

নিউজ ডেস্ক |  ১৭ মে, ২০১৫

চার বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল কাদেরকে থানায় নিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় খিলগাঁও থানার তখনকার ওসি হেলালউদ্দিনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আলমগীর কবির রোববার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

ওই ঘটনার কারণে পুলিশ বাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া হেলালকে তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি দশ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন বিচারক। জরিমানার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে আরও তিন মাস জেল খাটতে হবে।

ফৌজদারী আইনের ৩২৪ ধারা অনুযায়ী, মৃত্যুর কারণ ঘটাতে পারে এমন কোনো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের দায়ে এটাই সর্বোচ্চ সাজা।

২০১১ সালের ১৬ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিভাগের তৎকালীন ছাত্র কাদেরকে আটকের পর তাকে ছিনতাইকারী হিসেবে দেখানোর জন্য থানায় নিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করেন ওসি হেলাল। কিন্তু স্বীকারোক্তি না পেয়ে চাপাতি দিয়ে তার পায়ে আঘাত করেন।

পুলিশের তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত কাদের বর্তমানে একজন সরকারি কর্মকর্তা। বিসিএস দিয়ে তিনি শিক্ষকতা করছেন লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজে।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “রায়ে আমি খুশি। এতে প্রমাণ হল যে ঘটনাটি সাজানো ছিল।”

ন্যায়বিচার পাবেন কি না- তা নিয়ে আগের দিনও শঙ্কায় থাকলেও রায়ের পর তা কেটে গেছে বলে জানান তিনি।

এ মামলার যিনি আসামি, সেই হেলালউদ্দিন রায়ের দিন আদালতে হাজির না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে রায় পেছানোর আবেদন পাঠান।

তার আইনজীবী সাইদুর রহমান মানিক সময়ের আবেদনে বলেন, হেলাল পেটের পিড়ায় আক্রান্ত। এ কারণে তিনি আসতে পারেননি।

কিন্তু বক্তব্যের পক্ষে কোনো নথি দাখিল করতে না পারায় হেলালের আবেদন নাকচ করে তাকে পলাতক দেখিয়েই রায় ঘোষণা করেন বিচারক।

রায়ের সময় কাদেরের পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন তার আইনজীবী গফ্ফার হোসেন। মোট ১৩ জনের সাক্ষ্য নিয়ে বিচারক এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৬ জুলাই খালার বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে ফেরার পথে সেগুন বাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যালয়ের সামনে সাদা পোশাকের পুলিশ কাদেরকে আটক করে। কাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসাবে পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে নিয়ে যাওয়া হয় খিলগাঁও থানায়।

ওই থানার তখনকার ওসি হেলাল তার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য মারধর করেন। এক পর্যায়ে থানার টেবিলে রাখা একটি চাপাতি নিয়ে ‘দেখি তো চাপাতিতে ধার আছে কি না’ বলে কাদেরের বাঁ পায়ের পেছন দিকে মাংশ পেশিতে আঘাত করেন।

গুরুতর আহত কাদেরকে এরপর দীর্ঘদিন হাসপাতালে কাটাতে হয়। এরইমধ্যে ২১ জুলাই তাকে মোহাম্মদপুর থানার একটি গাড়ি ছিনতাই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে খিলগাঁও থানার অস্ত্র ও ডাকাতি চেষ্টার দুটি মামলায় আসামি করা হয় তাকে, যদিও এসব মামলার এজাহারে তার নাম ছিল না।

কাদেরের ওপর পুলিশি নির্যাতনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিষয়টি গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচিত হয়। এরপর হাই কোর্টের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি করে পুলিশ।

এ বিষয়ে তদন্তের মধ্যেই হাই কোর্টের নির্দেশে খিলগাঁও থানার তখনকার ওসি হেলালউদ্দিন এবং কাদেরকে গ্রেপ্তারের অভিযানে যাওয়া এসআই আলম বাদশাহ ও এএসআই শহীদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

পুলিশের তদন্তে তিন মামলাতেই নির্দোষ প্রমাণিত হন কাদের। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ২০১২ সালের ২৩ জানুয়ারি তিনি ওসি হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

ওই বছর ২৬ মার্চ আসামি হেলালের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন এ মামলার তদন্ত কর্মকর্ত উপ-পরিদর্শক মো. আবু সাঈদ আকন্দ। ২০১২ সালের ১ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.