Sylhet Today 24 PRINT

ঢাকা-সিলেট-গুয়াহাটি রুটে বাস চলাচল শুরু হচ্ছে ২২ মে

সিলেটটুডে ডেস্ক  |  ১৯ মে, ২০১৫

ঢাকা-শিলং-গুয়াহাটি রুটে পরীক্ষামূলক বাস চলাচল শুরু হবে ২২ মে। সিলেটের তামাবিল হয়ে বাসটি ভারতে প্রবেশ করবে। এ লক্ষ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেয়া হবে।

সোমবার নয়াদিল্লির পরিবহন ভবনে সফররত বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সড়ক পরিবহন, মহাসড়ক ও নৌ-পরিবহনমন্ত্রী নিতিন গাদকারির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

এ সময় দ্বিপক্ষীয় সড়ক পরিবহন বিষয়ক আরো বিষয়ে আলোচনা হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. আবু নাছের নয়াদিল্লি থেকে এ তথ্য জানান।

জানা গেছে, ২২ মে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) ঢাকার কমলাপুরের ডিপো থেকে বাস সার্ভিসটি উদ্বোধন করা হবে। সেদিন বিকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ১৮ জন প্রতিনিধি থাকবেন। পরদিন ২৩ মে ভারতের গুয়াহাটি পৌঁছে পরের দিন আবার একই রুটে ফিরে আসবেন। আর পরের সপ্তাহে ভারতের টিআরটিসির একটি বাস গুয়াহাটি থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসবে।

উল্লেখ্য, ২ মে ঢাকা-গুয়াহাটি রুটে পরীক্ষামূলক বাস চলাচল শুরুর কথা ছিল। তবে ভারতের প্রস্তুতির অভাবে তা স্থগিত করা হয়। পরীক্ষামূলক চলাচল শুরুর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় এ-সংক্রান্ত চুক্তি সইয়ের কথা রয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকা-গুয়াহাটি রুটে সিলেট পর্যন্ত সড়কটি মহাসড়ক ও ভালো মানের। তবে সিলেট থেকে তামাবিল পর্যন্ত সড়কের অবস্থা খারাপ। আবার ভারতের অংশ বড় বাস চলাচলের অনুপযুক্ত। তাই প্রাথমিকভাবে ঢাকা-গুয়াহাটি রুটে মিনিবাস চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় দুই দেশ। পরবর্তীতে ভারতের অংশ প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের পর ও যাত্রী চাহিদা বাড়লে বড় বাস যাতায়াত করবে।

এদিকে ভারতের অংশে পিয়াইন নদীর ওপর ডাউকি (ঝুলন্ত) সেতুটি মেরামতের প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। আর পরীক্ষামূলক বাস চালানোর ভিত্তিতে ঢাকা-গুয়াহাটি রুটে সম্ভাব্য ব্যয় ও ভাড়া চূড়ান্ত করা হবে। এর ভিত্তিতে পরবর্তীতে দুই দেশের মধ্যে একটি প্রটোকল সই করবে। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের বাসও প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দুদিন এ রুটে চলাচল করবে।

বিআরটিসি সূত্র জানা গেছে, পরীক্ষামূলক চলাচলের জন্য শ্যামলীর এসি কোস্টার মিনিবাস ব্যবহার করা হবে। আর পরীক্ষামূলক চলাচল শেষে দরপত্রের মাধ্যমে আগ্রহী এক বা একাধিক পরিবহন কোম্পানিকে ঢাকা-গুয়াহাটি রুটে বাস সার্ভিস চালানোর লাইসেন্স দেয়া হবে। তখন বাসের যাত্রাবিরতিসহ যাত্রীদের অন্য সেবার বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে।

এদিকে সোমবারের বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সড়ক নেটওয়ার্ক আরো জোরদারকরণে দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত বিবিধ চুক্তি ও প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এতে জানানো হয়, বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও নেপালের মধ্যে অচিরেই সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা চালু হতে যাচ্ছে।

এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়া স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন করায় ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

উল্লেখ্য, ভারতের সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী চারদিনের সফরে বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.