সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৯ মে, ২০১৫
আলোচিত অস্ত্র ব্যবসায়ী ও ড্যাটকো গ্রুপের চেয়ারম্যান মুসা বিন শমসের (প্রিন্স মুসা) অঢেল সম্পদের হিসাব জানতে সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয় থেকে মঙ্গলবার সম্পদ বিবরণী দাখিলের এ নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে মুসাকে যাবতীয় সম্পদের হিসাব কমিশনে দাখিল করতে বলা হয়েছে। দুদক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দুদক সূত্র জানায়, সুইস ব্যাংকে আটকে থাকা ‘সাত বিলিয়ন ডলার’ অনুসন্ধান করতে গিয়ে মুসার আরও পাঁচ বিলিয়ন ডলারের তথ্য পায় দুদক। অর্থাৎ প্রিন্স মুসার মোট ১২ বিলিয়ন ডলার সুইস ব্যাংকে জব্দ রয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৭৮ টাকা হিসেবে)।
ওই অর্থ ছাড়াও গাজীপুর ও সাভারে মুসার নামে বিভিন্ন দাগে প্রায় ১২ শ’ বিঘা সম্পত্তি রয়েছে। খাতা-কলমে ওই জমির মালিক তিনি। ১৯৭২-৭৩ সালে ওই সম্পত্তি ক্রয় করা হয়। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি টাকার উপরে (এক বিঘা এক কোটি টাকা হিসেবে)। অধিকাংশ সময় মুসা দেশের বাইরে থাকায় এ সব সম্পত্তির খাজনা পরিশোধ করে নামজারি করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তিনি জমিগুলো পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
সূত্র আরও জানায়, প্রিন্স মুসার বিরুদ্ধে ২০১১ সালে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ওই সময় বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস’র প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে এ অনুসন্ধান শুরু করা হয়। তবে অজ্ঞাত কারণে দুদকের ওই অনুসন্ধান আলোর মুখ দেখেনি। তিন বছর পর ২০১৪ সালের শেষের দিকে ‘বিজনেস এশিয়া’ ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে আবারও নতুন করে মুসার সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক।
২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর দুদকের সিনিয়র উপ-পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীকে প্রধান করে একটি অনুসন্ধান দল গঠন করে কমিশন।
ওই বছরের ৪ ডিসেম্বর মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পাঠায় দুদক। ১৮ ডিসেম্বর হীরার জুতা থেকে শুরু করে আপাদমস্তক মূল্যবান অলঙ্কারে সজ্জিত হয়ে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে হাজির হন প্রিন্স মুসা। সঙ্গে ছিল নারী-পুরুষের ৮০ জনের এক দেহরক্ষী বহর। দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সুইস ব্যাংকে জব্দ করা অর্থ ফেরত পেলে পদ্মা সেতু নির্মাণে বিভিন্ন খাতে তা বিনিয়োগ করবেন বলে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান মুসা।