Sylhet Today 24 PRINT

কোনও রাজনৈতিক দলের ফাঁদে পড়বে না আদালত: প্রধান বিচারপতি

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১০ আগস্ট, ২০১৭

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের ফাঁদে আদালত পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহা।

বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইন কমিশনের বক্তব্য আইনজীবীদের তুলে ধরার প্রেক্ষাপটে প্রধান বিচারপতি এমন্তব্য করেন।

এসকে সিনহা বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দল বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর ফাঁদে আদালত পা দিবে না।

তিনি বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলে আপিলের রায় নিয়ে সব গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানাবে আদালত। গঠনমূলক সমালোচনার বাইরে গিয়ে যদি কেউ সমালোচনা করেন তাহলে বিচার বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, যে কোনো বিষয়ের আলোচনা হতে পারে। তবে সেটা যেন গঠনমূলক হয় তা খেয়াল রাখতে হবে।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন তুলে ধরে বলেন, ‘রায় পূর্বধারণাপ্রসূত এবং বাংলাদেশ এখন বিচারকদের প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়েছে—আইন কমিশনের পক্ষ থেকে এমনটি বলা হয়েছে। আমরা বিচার বিভাগের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার জন্য বলছি।’

এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ঠিক আছে। আপনারা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। আপনারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য বলছেন। তবে রায় ঘোষণার পর গঠনমূলক সমালোচনা করা যায়। রায় হওয়ার পর আমরা গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করি।’

এ সময় জয়নুল আবেদীন বলেন, সর্বোচ্চ বিচারালয়কে নিয়ে যেভাবে বলা হয়েছে, তা আদালত অবমাননাকর। এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এই বিচার বিভাগকে রক্ষা করতে হলে কোনো রাজনীতি আনবেন না। আমরা রায় দিয়ে দিয়েছি। বিচার বিভাগ কোনো রিজয়েন্ডারও দেবে না।’

জয়নুল আবেদীন আরও বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে বলছি।’ তখন আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম বলেন, সমিতির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো রেজল্যুশন আনা হয়নি। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা সচেতন, আমরা দেখছি।’

এ সময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন আইন কমিশনের বক্তব্যকে আদালত অবমাননাকর উল্লেখ করে আদালত অবমাননার রুল ইস্যুর কথা বলেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি অনুরোধ করব, আপনারা সংযত আচরণ করবেন, যা সবার জন্য মঙ্গল। সরকার বা বিরোধী দল—কারও ট্র্যাপে পড়ব না। আমরা সচেতন। সাতজন বিচারপতি চিন্তাভাবনা করে রায় দিয়েছি। রায় নিয়ে কেউ পলিটিকস করবেন না।’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আদালতকে নিয়ে কুৎসা রটানো হয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের এই পর্যায়ে আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপনারা সংযত আচরণ করবেন, যাতে কেউ ফায়দা লুটতে না পারে। আপনারা আরও সচেতন হবেন।’ এরপর জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা আমাদের কাজ করছি। আইন কমিশনের চেয়ারম্যান দায়িত্বশীল পদে আছেন। তিনি এভাবে বলতে পারেন না।’ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘উই কনসার্ন।’

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ওই বক্তব্য অবমাননাকর। প্রধান বিচারপতি বলেন, রায়ের গঠনমূলক সমালোচনা যে-কেউ করতে পারেন। একদিন ইতহাস বিচার করবে।

গেল ৮ মে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু হয়। টানা ১১ দিন আলোচিত এ মামলার শুনানি হয়। আপিল শুনানিতে মতামত উপস্থাপনকারী ১০ অ্যামিক্যাস কিউরির মধ্যে শুধু ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর পক্ষে মত দেন। অপর অ্যামিক্যাস কিউরি ড. কামাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আই ফারুকী, আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ এম হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার এম. আমিরুল ইসলাম, বিচারপতি টিএইচ খান, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, ফিদা এম কামাল, এ জে মোহাম্মদ আলী সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বিপক্ষে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

এরআগে, গেল ১ জুন সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে হাই কোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শেষ হয়। এর পর মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়।

৩ জুলাই বিচাপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে এনে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.