নিজস্ব প্রতিবেদক | ২১ মে, ২০১৫
আল কায়েদা-আনসারুল্লাহ বাংলাটিম-১৩ নামের একটি গ্রুপ বরেণ্য শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী ড. জাফর ইকবাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমামসহ ১০জন ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। এ ব্যাপারে ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবালের কাছে জানতে চাওয়া হলে জাফর ইকবাল বলেন, তাকে দেয়া হুমকির ব্যাপার তিনি উদ্বিগ্ন নন। তিনি বরং নিরাপত্তাহীনভাবে বসবাস করে ব্লগারদের নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন।
জাফর ইকবাল বলেন, আমি এ ধরনের হুমকি আগেও পেয়েছি, আমি এটাকে খুব বাড়াবাড়ি পর্যায়ে দেখছিনা। যেহতু এই তালিকায় খুব গুরুত্বপূর্ণ মানুষের নাম আছে কাজেই আমি আশা করব সরকার ব্যবস্থা নিবে। আমি যেটা বলতে চাই, এখানে যে ১০ জনের নাম আছে তারা সবাই প্রতিষ্ঠিত তারা হয়ত খুব সহজেই সংবাদ মাধ্যমে চলে আসে,সবাই উদ্বেগও জানান। কিন্তু যে ৮৪ জন ব্লগারের নামের তালিকা করা হয়েছে এবং সেখান থেকে একজন একজন করে খুন করা হচ্ছে আমি তাদের নিয়ে বরং উদ্বিগ্ন। আমি এখানে সিকিউরিটির মধ্যেই আছি, গত কদিন পুলিশও আমাকে সিকিউরিটি দিচ্ছে। কিন্তু যে ৮৪ জন ব্লগার আছে তাদের কিন্তু কেউ প্রটেকশন দেয় না, তারা কিন্তু খুব বিপদে আছে।
পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে শাবিপ্রবির অধ্যাপক জাফর ইকবাল বলেন, তারা(জঙ্গিরা) কিন্তু প্রকাশ্যেই হত্যা করছে , হত্যার পর নিহত ব্লগারদের বন্ধুদের ফোন করেও হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু পুলিশ খুব কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। পুলিশের বড় কর্মকর্তারা আন্তরিক হলে খুনিরা ধরা পড়বে বলে মনে করেন তিনি।
বুধবার (২০ মে) ডাকযোগে পাঠানো ইংরেজিতে লেখা একটি চিঠিতে এ হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। আনসারুল্লাহ বাংলাটিম-১৩ গ্রুপের পাঠানো চিঠিতে লেখা রয়েছে ‘মাস্ট উইল প্রিপেয়ার ফর ডেড’।
এই বাক্যটির সাথে ক্রমিক নম্বর দিয়ে লেখা রয়েছে ১০ব্যক্তির নাম। নামের তালিকায় এক নম্বরে আছেন- প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম। তার নামের পাশে লেখা রয়েছে এন্টি ইসলাম, এডভাইজার।
দুই নম্বরে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তার নামের পাশে লেখা আছে আই,দুশমন,ভিসি।
পর্যায়ক্রমে আছেন তারানা হালিম (নাস্তিক), জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অসীম সরকার (হিন্দু মৌলবাদ), ডা. ইমরান এইচ সরকার (ব্লগার), কাবেরী গায়েন (আই, এনিমি, ডিইউ), বিকাশ সাহা (আই, দুশমন), ইকবালুর রহিম (আই, দুশমন), পলান সুতার (এন্টি বাংলাদেশ, র, এডভাইজার) এবং অধ্যাপক জাফর ইকবালের (সেক্যুলার) নাম।
চিঠির প্রাপ্তি ও এর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঢাবি উপাচার্যের পক্ষ থেকে রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এমন খবর দিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম।