Sylhet Today 24 PRINT

জার্মানি গিয়ে ব্লগার ওমর ফারুক লুক্সকে হত্যার হুমকি বুয়েট ছাত্রের

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২৩ মে, ২০১৫

বুয়েট ছাত্র শফিকুল ইসলাম

জার্মান প্রবাসী ব্লগার ওমর ফারুক লুক্সকে সেদেশে গিয়েই হত্যার হুমকি দিয়েছেন মোঃ শফিকুল ইসলাম নামের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক ছাত্র।

ওমর ফারুক লুক্স জানান, শফিকুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে ফেসবুকে তাকে মেসেজের মাধ্যমে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ২০১৪ সালের ৩ জুলাই শফিকুল লুক্সকে ফেসবুক বার্তায় লেখেন বুয়েট থেকে DAAD এর স্কলারশিপ পাওয়া খুব সহজ, সেরকম স্কলারশিপ নিয়ে ওদেশে গিয়েই তিনি লুক্সকে 'সাইজ' করবেন। লুক্সকে সীমা লংঘনকারী উল্লেখ্য করে শফিকুল লেখেন - 'তোর মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে'।



জার্মানির বার্লিনে বসবাসকারী লুক্স সিলেটটুডে২৪ডটকমকে জানান, অভিজিৎ রায়কে হত্যার পরও  বুয়েটের আহসানউল্লাহ (পশ্চিম) হলে বসবাস করা শফিকুল  জার্মানি এসে হত্যার হুমকি দিয়ে তাকে ফেসবুকে ব্লক করে দেন।

শফিকুল বুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল(সি এস ই) বিভাগের ০৯ ব্যাচের ছাত্র। তার রোল নাম্বার ২৬।

এ ব্যাপারে ঢাকায় ডিবি পুলিশ এবং ঢাকাস্থ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সব দূতাবাসের কাছে ই-মেইল করেন লুক্স। কিন্তু কেউই এখনও তার মেইলের উত্তর দেয়নি।

এদিকে ওয়াশিকুর রহমান বাবু হত্যার পর বাবুর ওয়ালে গিয়ে বাবুকে ব্যঙ্গ করে "মুত্রমনা" লিখে আসতে দেখা গেছে শফিকুলকে। বর্তমানে নিষ্ক্রিয়(ডিএক্টিভেটেড) করে রাখা শফিকুলের আইডি থেকে উগ্র ধর্মীয় পোষ্ট করা হত বলে জানিয়েছেন অনেকে।  



সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু ছাত্র ও কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরির এবং নিষিদ্ধ হবার প্রস্তাব আসা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে বুয়েটের ক্যাম্পাসে গোপনে সক্রীয় রয়েছে  হিজবুত তাহরীর, হিজবুত তাওহীদ, কালেমার ডাক, লিবারেটেড ইয়ুথ, ছাত্র মুক্তি, কালেমা-ই-জামাত, হিযবুল মাহাদি, জামায়েতুল মুসলেমিন, দাওয়াতি ইসলাম বাংলাদেশ, জমিয়তে আহলে হাদিস বাংলাদেশ, ইসলামী গণ-আন্দোলন, কালেমার দাওয়াত ও ইসলামি দাওয়াতি কাফেলাসহ বিভিন্ন সংগঠন। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, শিবির, হিজবুত তাহরীর ছাড়া বাকি সংগঠন গুলো অনেকটা গোপনে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। পাঠদানের আড়ালে তারা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে।

শিবির আর হিজবুত তাহরীর মিলে বুয়েটে শক্ত অবস্থান প্রকাশ পায় তৎকালীন শিক্ষক আন্দোলনের সময়। সে সময় বুয়েট ছাত্র-শিক্ষক আন্দোলনে ছাত্রদের অংশের নেতৃত্ব দেয়া এমন একজন ছাত্রের রুম তল্লাশী করে প্রচুর পরিমাণ বিস্ফোরক, শিবির আর হিজবুত এর বই ডায়েরি, ধারালো অস্ত্রসহ নানা জিনিস উদ্ধার করা হয়।

দেশের প্রকৌশল বিদ্যার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান বুয়েটে উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠির এমন তৎপরতায় উদ্বেগ ও হতাশা ব্যক্ত করতে দেখা গেছে অনেককে। এ ব্যাপারে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ আশা করেছেন সচেতন মহল।

সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ব্লগারদের হত্যার আলামত দেখে অনেকেই সন্দেহ করছেন - খুনিরা এসব হত্যাকাণ্ড ঘটাতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে যাতে করে কোন ক্লো খুজে না পাওয়া যায়।

গত ৩ মাসে ধারাবাহিকভাবে ঢাকায় মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ড.অভিজিৎ রায় ও ওয়াশিকুর রহমান বাবু এবং গত ১২ মে সিলেটে বিজ্ঞান লেখক অনন্ত বিজয় দাশকে একই কায়দায় কুপিয়ে হত্যা করে উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীর লোকজন। হত্যার পর আনসার বাংলার নামে দায়ও স্বীকার করে নেয়া হয়।  

অভিজিৎ হত্যার দায়ে সন্দেহভাজন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শফিউর রহমান ফারাবিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর অভিজিৎ হত্যার ব্যাপারে আর কোন অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি।  ওয়াশিকুর বাবুকে হত্যার করে পালানোর সময় জিকরুল্লাহ ও আরিফুল নামের দুই মাদ্রাসা ছাত্রকে ধরে ফেলে স্থানীয় জনতা, অপর এক খুনি পালিয়ে যায়।

কিন্তু অনন্ত বিজয় দাশকে প্রকাশ্যে হত্যা করার ১১ দিন (২৩ মে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত) পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

অপরদিকে ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি খুন হওয়া ব্লগার রাজীব হায়দার হত্যার সাথে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ ছাত্রের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে একজন ছাড়া বাকি সবাইকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। রাজীব হায়দার হত্যা মামলার আসামীরা এখন কারান্তরিন আছেন, মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।



টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.