সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৪ আগস্ট, ২০১৭
সুন্দরবনের চারদিকে ১০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে নতুন করে শিল্প-কারখানা স্থাপন না করার নির্দেশ দিয়েছেন হাই কোর্ট। একইসঙ্গে সুন্দরবনের চারদিকে ১০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে কতটি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে আগামী ৬ মাসের মধ্যে তার তালিকা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।
এরআগে এপ্রিল মাসে সুন্দরবনের চারদিকে ১০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে স্থাপিত শিল্প-কারখানাসহ অন্য স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে রিট আবেদন করা হয়। একইসঙ্গে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে যে সব কল-কারখানা স্থাপনের অনুমতি বা ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে তা বাতিলের আবেদন জানানো হয়।
সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ ফরিদুল ইসলাম হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ৪ এপ্রিল এ রিট আবেদন দাখিল করেন। রিট আবেদনে পরিবেশ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের ডিজি ও সুন্দরবনের আশপাশের জেলাগুলোর জেলা প্রশাসককে বিবাদী করা হয়।
রিট আবেদনে বলা হয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ১৯৯৯ সালের ৩০ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন এবং এর চারদিকে ১০ কিলোমিটার এলাকাকে পরিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। এ প্রজ্ঞাপন অনুসারে সুন্দরবনের চতুর্দিকে ১০ কিলোমিটার এলাকায় ভূমি, পানি, বায়ু ও শব্দ দূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যাবে না।
গণমাধ্যমে খবর এসেছে, পরিবেশ অধিদফতর ইতোমধ্যে প্রায় একশ ৫০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে প্রকল্প করার জন্য অবস্থানগত ছাড়পত্র দিয়েছে। যার মধ্যে জাহাজ ভাঙা শিল্পসহ পরিবেশ দূষণকারী প্রকল্প রয়েছে। এ সব শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদ ও পরিবেশ আইন ১৯৯৫-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তাছাড়া এসব শিল্প কারাখানা সুন্দরবনের জন্য হুমকিস্বরূপ বলেও রিটে উল্লেখ করা হয়।