সিলেটটুডে ডেস্ক | ৩১ আগস্ট, ২০১৭
টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর হত্যা করা আইডিয়াল ল কলেজের ছাত্রী রূপা খাতুনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আদেশ দিয়েছেন আদালত। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম গোলাম কিবরিয়া এই আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে চলন্ত বাসে রূপাকে ধর্ষণের পর ঘাড় মটকে হত্যা করেন পরিবহন শ্রমিকেরা। পরে তার মৃতদেহ টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রাখা হয়। রাত ১১টার দিকে মধুপুর থানার পুলিশ রূপার মৃতদেহ উদ্ধার করে
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে শনিবার রূপার মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরিচয় না পাওয়ায় টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে তাকে দাফন করা হয়। রূপার বড় ভাই হাফিজুল সোমবার একটি পত্রিকায় বেওয়ারিশ মৃতদেহ দাফনের সংবাদ দেখে টাঙ্গাইলের মধুপুর থানায় এসে বোনের মৃতদেহ শনাক্ত করেন।
টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে রূপার মরদেহ তুলে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। এ জন্য রূপার বড় ভাই পুলিশের কাছে আবেদন করেন।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, রূপার মরদেহ উত্তোলন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য ব্যবস্থা নিতে নিহত তরুণীর বড় ভাই হাফিজুল ইসলাম প্রামাণিক গতকাল বুধবার থানায় আবেদন করেন। তার আবেদনটি আজ আদালতে উপস্থাপন করে পুলিশ। আদালত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আদেশ দিয়েছেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মরদেহ উত্তোলন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুর রহিম সুজন জানিয়েছেন, আজই টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে রূপার মরদেহ উত্তোলন করা হবে।
রূপাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর রহমান (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলী (৫৫) গতকাল আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আগের দিন বাসের তিন সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) আদালতে জবানবন্দি দেন। তারা পাঁচজনই ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।