সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
মিয়ানমারের সেনাদের নির্যাতনে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবায় বিশ্বব্যাংকের কাছে ২৫০ মিলিয়ন ডলার সাহায্য চেয়েছে বাংলাদেশ।
সোমবার সচিবালয়ে দুর্যোগ ও মহামারী মোকাবেলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি এবং বিশ্বব্যাংকের সহায়তাবিষয়ক এক সভায় সভাপতিত্বের সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ সাহায্য চান।
এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ অতীতে যেভাবে বিভিন্ন দুর্যোগ প্রতিরোধে সফল হয়েছে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা কাজেও এবার সেভাবে সফলতা নিয়ে আসবে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, মহামারী ও দুর্যোগ মোকাবেলায় সহযোগিতার জন্য পৃথিবীর যে ৭৫টি দেশকে বিশ্বব্যাংক তালিকাভুক্ত করেছে, বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। বিশ্বব্যাংকের গ্রেডিং পয়েন্ট পাঁচ অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পয়েন্ট বর্তমানে ২.৫। এ অবস্থান অনুযায়ী বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের অনুদান পাওয়ার যোগ্য। তবে এ অর্থ সফলভাবে ব্যয় করতে হলে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকে আরও এগিয়ে গ্রেডিং ৪ পয়েন্টে উন্নীত করতে হবে।
জাহিদ মালেক বলেন, দক্ষ জনবল সৃষ্টি, উন্নতমানের ল্যাবরেটরি স্থাপন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, প্রশিক্ষণের মান বাড়ানো ও যন্ত্রপাতির আধুনিকায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সব ধরনের মহামারী ও দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ সময় তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রমে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাহায্যার্থে বাংলাদেশের আবেদনকে সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়ে বিশ^ব্যাংকের হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের কর্মকর্তা মুকেশ চাওলা বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসাসেবায় বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত সফলভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন দেশে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ও জিকা ভাইরাস ঠেকাতে বাংলাদেশের সাফল্যে বিশ্বব্যাংক গর্বিত।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. এন পারারিনথরন রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সরকারের সাফল্যের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আজ সারাবিশ্বে প্রশংসিত। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে রোহিঙ্গা শরণার্থীকেন্দ্রে যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম করা হয়েছে, তা বিরল। বিশ্বের অনেক দেশই মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে এই বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে এত দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।