Sylhet Today 24 PRINT

এতিম রোহিঙ্গা শিশুদের স্মার্টকার্ড দেবে সরকার

সিলেটড়ুডে ডেস্ক |  ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে  বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা এতিম শিশুদের ডাটাবেজ তৈরি করে স্মার্টকার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সেবা পাবে এতিম শিশুরা।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান।

মিয়ানমার থেকে আসা এতিম শিশুদের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের করণীয় শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় আঠার’শ এতিম শিশুর ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। যাদের স্মার্টকার্ড দেওয়া শুরু হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সচিব জিল্লার রহমান জানান, গুগল ফর্মে তাদের ডাটাবেজ সংগ্রহ করে একদিন পরই স্মার্টকার্ড দেওয়া হচ্ছে। এতিম শিশুদের সংখ্যা ৫-৬ হাজার হবে বলে জানান সচিব।

ইতোমধ্যে এক হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা শিশুকে শনাক্ত করে স্মার্ট কার্ড দেওয়া হয়েছে জানিয়ে সমাজকল্যাণ সচিব জিল্লার রহমান বলেছেন, ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত সব এতিম ও পরিবারবিচ্ছিন্ন রোহিঙ্গা শিশুদের আলাদা করে স্মার্ট কার্ড দেবেন তারা।

“এই রোহিঙ্গা শিশুদের আলাদা করে রাখতে সরকারের কাছে উখিয়া ও টেকনাফে ২০০ একর করে জমি চাওয়া হয়েছে। জায়গা পেলে অনাথ রোহিঙ্গা শিশুদের আলাদা ক্যাম্পে রাখার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পরিকল্পনা পাঠানো হবে।

জিল্লার রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অনাথ রোহিঙ্গা শিশুদের চিহ্নিত করে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার এই কাজ শুরু করেছেন তারা। এ পর্যন্ত চিহ্নিত করা ১৮০০ শিশুকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা যাবে বলে তারা আশা করছেন।

“১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সটা ভালনারেবল। তাদের যদি নরমাল এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে রাখা হয় হয়ত তারা অশান্তির কাজে জড়িয়ে যেতে পারে। এজন্য সরকারের বিবেচনা হচ্ছে, পরিবারবিচ্ছিন্ন শিশুদের আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা।”

জায়গা বরাদ্দ পেলে শূন্য থেকে সাত বছরের শিশুদের এক জায়গায় এবং ৮ থেকে ১৮ বছরের শিশুদের আরেক জায়গায় রেখে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে তাদের পরিচর্যা করার পরিকল্পনার কথা জানান সমাজকল্যাণ সচিব।

তিনি বলেন, “ওই শ্রেণির মানুষের (অপরাধী) সংস্পর্শে যেন শিশুরা না আসে। বাংলাদেশের শান্তিশৃঙ্খলা যেন বিঘ্নিত না হয় এবং এটা তাদের অধিকার।”

এদিকে এতিম শিশুদের চিহ্নিত করে স্মার্ট কার্ড দেওয়া শুরু হওয়ায় অনেক বাবা-মাও বাড়তি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার আশায় তাদের সন্তানকে এতিম দেখিয়ে কার্ড নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানান সচিব।

তিনি বলেন, এতিম রোহিঙ্গা শিশুদের যে স্মার্ট কার্ড দেওয়া হচ্ছে তার অর্ধেক অংশ জুড়ে ছবি, আর বাকি অর্ধেকে তথ্য থাকছে। কার্ড বিতরণে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১২০ জন কর্মচারী কক্সবাজারে কাজ করছেন।

“কোনো রোহিঙ্গা শিশু খুব খারাপ অবস্থায় নেই, তাদের দেখাশোনা করা হচ্ছে।… আমরা আশা করছি আন্তর্জাতিক চাপে তাদের দ্রুত ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা থাকছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের সহযোহিতা করা হবে।”

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.