নিউজ ডেস্ক | ০১ জুন, ২০১৫
সংবাদ সম্মেলনে তিস্তা চুক্তি হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ
ভারতের সাথে তিস্তার পানিবন্টন চুক্তি যেনো অধরাই থেকে গেলো। দেশটির রাষ্ট্রপতি নরেন্দ্র মোদির আসন্ন ভারত সফরেও হচ্ছেনা সই হচ্ছেনা তিস্তা চুক্তি।
রোববার নয়া দিল্লিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে একথা জানান ভারতে পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতামত নেওয়া হবে।
“তিস্তা চুক্তি সইয়ের মতো পরিস্থিতিতে আমরা উপনীত হতে পারিনি,” সুষমাকে উদ্ধৃত করে বলেছে বার্তা সংস্থা পিটিআই।
সুষমা স্বরাজ বলেছেন, “রাজ্য (পশ্চিমবঙ্গ) সরকারের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে বোঝাপড়াই যথেষ্ট নয়।”
আগামী ৬ জুন দুই দিনের সফরে ঢাকা আসছেন নরেন্দ্র মোদী। চার দিন আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে তার আকস্মিক বৈঠকের পর তিস্তা চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়।
এর আগে ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহনের ঢাকা সফরের সময় তিস্তা চুক্তি সই হওয়ার কথা থাকায় এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার বিস্তারিত সম্পর্কে অবগত তিনি। তবে সে সময় শেষ মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বেঁকে বসায় তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি আটকে যায়।
এর প্রায় সাড়ে তিন বছরের মাথায় গত ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচি উপলক্ষে ঢাকা ঘুরে যান মমতা। সে সময় তিনি ‘শিগগিরই তিস্তার জট খোলার’ আশা দিয়ে যান।
২০১১ সালে মনমোহনের সঙ্গে মমতা বাংলাদেশে না এলেও এবার প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে তিনি ঢাকা আসছেন বলে সুষমা জানিয়েছেন।
অবশ্য আগের দিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর একদিন আগেই ঢাকা আসছেন এবং স্থল সীমান্ত চুক্তি সইয়ের পর ৬ জুন ফিরে যাবেন তিনি।
গত শুক্রবার কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘তিস্তা চুক্তি না করার’ আশ্বাস দিয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঢাকা সফরে রাজি করিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
তবে তার তিন দিন আগেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, চুক্তির যে কাঠামো চার বছর আগে তৈরি হয়েছিল, তা ঠিক রেখে তিস্তা নদীর কতটুকু পানি বাংলাদেশ পাবে, তা নিয়েই মোদীর সফরে আলোচনা হবে।
সম্প্রতি ভারতের পার্লামেন্টে স্থল সীমান্ত বিল পাশ হয়, যাতে দীর্ঘকাল ঝুলে থাকা দুই দেশের স্থল সীমান্ত চুক্তি কার্যকরের পথ তৈরি হয়। এতে বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের ১১১টি ছিটমহল এবং ভারতের সীমান্তে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল বিনিময়ের সুযোগও তৈরি হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এ সফরে দুই দেশের সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নিতে সড়ক, রেল, নৌপথ, বাণিজ্য, নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় এক ডজন চুক্তি সই হবে বলে তারা আশা করছেন।
জানা যায়, মোদি আগামী শনিবার সকালে ভারতীয় বিশেষ বিমানে ঢাকায় পৌঁছবেন। এরপর তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি ও ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাবেন।
দুপুরের পরপরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাবেন। সেখানে শেখ হাসিনার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি একান্ত বৈঠক করবেন। এরপর তাঁদের নেতৃত্বে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে। এরপর তাঁদের উপস্থিতিতেই দুই দেশের মধ্যে চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হবে। সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত নৈশভোজ সভায় যোগ দেবেন মোদি। সেখানে ভারতীয় প্রতিনিধিদল, বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার সব সদস্য, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতাসহ বিশিষ্টজনরা উপস্থিত থাকবেন।
পরদিন সকালে নরেন্দ্র মোদি ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যাবেন। এরপর তিনি যাবেন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির পক্ষে মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদানের জন্য বাংলাদেশের দেওয়া রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গ্রহণ করবেন তিনি।
সেদিনই কোনো এক সময় বারিধারায় ভারতের নতুন চ্যান্সারি ভবন উদ্বোধন করবেন মোদি। সন্ধ্যায় ঢাকা ছাড়ার আগে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তরুণদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তবে এর আগে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে।