Sylhet Today 24 PRINT

স্বাধীনতাবিরোধীদের জায়গা হবে না প্রেসক্লাবে

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০১ জুন, ২০১৫

জাতীয় প্রেসক্লাবের বিগত দিনের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সংঘটিকে স্বাধীনতাবিরোধীদের আখড়ায় পরিণত করার অভিযোগ এনে এখান থেকে ‘স্বাধীনতাবিরোধীদের’ উচ্ছেদ করার ঘোষণা দিয়েছে  নতুন নেতৃত্ব।

গত বৃহস্পতিবার ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক ও বিএনপিপন্থী সমর্থক সাংবাদিকদের একাংশের সমঝোতার ভিত্তিতে সংঘটির নতুন নেতৃত্ব গঠন করা হয়।

নতুন কমিটিতে ১০ জন আওয়ামী লীগ সমর্থিত এবং বাকী সাতজনের অধিকাংশই উদারপন্থি বিএনপি সমর্থক বলে পরিচিত।

প্রায় দুই যুগ পর আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাংবাদিকরা প্রেসক্লাবের সভাপতিসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সিংহভাগ পদে দায়িত্ব পায়।

রোববার নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভাশেষে নতুন সভাপতি শফিকুর রহমান  বলেন, “দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে বিগত সময়ে প্রেসক্লাবে যত অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে তার একটা শ্বেতপত্র প্রকাশ করব আমরা।

“আজকের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে এর ফলো-আপ সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং একটি কমিটিও করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “এরা এমনভাবে ক্লাবকে কুক্ষিগত করে রেখেছিল যে, জামায়াত-শিবির আর শিবিরের অর্থে প্রতিপালিত কিছু বিএনপি নেতা, বিএনপিপন্থী সাংবাদিক; যারা চাকরি করে না তারা রাজকীয় জীবন-যাপন করে।

“কীভাবে করে? ওই জামায়াতের টাকা। এই ক্লাবেরই একজন সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি, এখন তিনি আরও উপরে গেছেন, তার পাঁচ জন বডিগার্ড আছে এবং তিনি যখন ক্লাবে ঢোকেন ওই বডিগার্ডদের খাওয়া দাওয়াও এই ক্লাব থেকে দেওয়া হয়।”

পাঁচ দশক সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত শফিকুর রহমান বলেন, “লুট-পাট, চুরি-চামারি এত করেছে! আর এই ক্লাবটাকে বানানো হয়েছে জামায়াত-শিবির এবং বিএনপির আখড়া। এটার বিরুদ্ধেই আমরা আওয়াজ তুলি।”

তিনি বলেন, প্রেসক্লাবের দেনার পরিমাণ প্রায় অর্ধ কোটি টাকা।

“এবং কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকেও টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।”

জাতীয় প্রেসক্লাবের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ কার্তিক চ্যাটার্জিকে আহ্বায়ক করে একটি উপ-কমিটি করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- নির্বাহী সদস্য আজিজুল ইসলাম ভুঁইয়া, যুগ্ম সম্পাদক আশরাফ আলী ও ইলিয়াস খান।

এদিকে নির্বাচন ছাড়া ক্লাব দখলের অভিযোগ তুলে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত সাংবাদিক ফোরাম রোববার দুপুরে ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সভা করে। তারা সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় ‘ক্লাব দখলের’ প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।

রোববারের সভায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান নতুন সভাপতি।

“এবং আরো একটি সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। জাতিরজনকের ম্যুরাল আমরা এখানে স্থাপন করব। আশা করি অচিরেই এটা আমরা করর।”

শফিকুর রহমান বলেন, “বঙ্গবন্ধু হত্যার পর থেকেই গোটা বাংলাদেশকে পাকিস্তানপন্থি রাজনীতির দিকে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্ত শুরু হয়। জিয়াউর রহমান পাকিস্তানিকরণের যে প্রক্রিয়া শুরু করেছিল সেটা সবচেয়ে বেশি হয়েছে (প্রেসক্লাবে)।

“জামায়াত-শিবিরের টার্গেট হল প্রেস ক্লাব দখল করতে হবে। এবং তারা যেটা করল- অঢেল টাকা ঢালতে শুরু করল।”

প্রেসক্লাবের সিংগভাগ সদস্যই বিএনপি-জামায়াতের হওয়ায় আওয়ামী লীগপন্থি সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করলেও সদস্যপদ দেওয়ার সময় বিএনপি-জামায়াতপন্থিদেরই এতদিন অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার নতুন কমিটি নির্বাচিত হওয়ার দিনই সদস্যদের সম্মতিক্রমে গঠনতন্ত্রে সর্বোচ্চ এক হাজার সদস্যের জায়গায় দেড় হাজার করা হয়েছে।

বর্তমানে প্রেসক্লাবে সাতশর বেশি সদস্য রয়েছেন।

রোববারের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় নতুন সদস্যপদ দেওয়ার লক্ষ্যে কমিটির জ্যেষ্ঠ সহ-সভপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলকে আহ্বায়ক করে বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

কমিটির সদস্যরা হলেন- নির্বাহী সদস্য শ্যামল দত্ত, মোল্লা জালাল, সরদার ফরিদ আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস খান ও আশরাফ আলী।

যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড হওয়া আব্দুল কাদের মোল্লা ও মোহাম্মদ কামারুজ্জামান দুজনই প্রেসক্লাবের সদস্য ছিলেন।

আর কোন ‘যুদ্ধাপরাধী’ এখনও প্রেসক্লাবের সদস্য আছে কি না খুঁজে দেখা হবে বলে জানান নতুন সভাপতি।

শফিকুর রহমান ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের দ্বায়িত্বে ছিলেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে সর্বশেষ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন হাসান শাহরিয়ার, ১৯৯১ থেকে ১৯৯২ মেয়াদে।

স্বপন কুমার সাহা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ১৯৯৯ থেকে ২০০১ মেয়াদে।

সেসব কমিটিতে বিএনপি-জামায়াতপন্থিরা সংখ্যায় বেশি থাকায় তাদের ‘কাজ করতে’ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

“জামায়াত-শিবির যারা করে তাদের আর মেম্বারশিপ হবে না। প্রেস ক্লাব দেশের মর্যাদাবান গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি, রাজাকার আল-বদর, জামায়াত-শিবির এই ক্লাবের সদস্য হতে পারে না।”

‘যারা বিশৃঙ্খলা করতে চাচ্ছে’ তাদেরকে সতর্ক করে দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, “ওদের হাত থেকে আখড়াটা চলে গেছে। রাত্রে বেলা যে এখানে শুধু মিটিং হত তা না, এখানে অনেক অপকর্মও হত।

“ওরা ভুলে যাচ্ছে যে, আমরা খুব শক্তিশালী। আমরা হয়ত এখনো কোন অ্যাকশনে যাচ্ছি না। কিন্তু একটা সময় আসবে যখন অ্যাকশনে যেতে বাধ্য হতে পারি। বাধ্য আমাদের হতে হবে।”

নতুন কমিটি প্রেসক্লাব ‘দখল’ করেছে-বিএনপি-জামায়াতপন্থিদের এমন অভিযোগের জবাবে নতুন সভাপতি বলেন, তা ঠিক নয়।

আগের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় সদস্যরাই নতুন কমিটি নির্বাচিত করেছে বলে জানান তিনি।

রোববারের সভায় প্রেসক্লাবের খাবারের দাম কমানোর বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান জানিয়েছেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.