Sylhet Today 24 PRINT

মন্ত্রী ছায়েদুলের বাড়িতে কেবল পরিত্যক্ত দুই টিনের ঘর

অনলাইন ডেস্ক |  ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭

সদ্যপ্রয়াত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এডভোকেট ছায়েদুল হকের গ্রামের বাড়িতে আছে কেবল পরিত্যক্ত দুই টিনের ঘর। পৈত্রিক ভিটায় আর কিছু নেই তাঁর। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে ঢাকায় থাকার জন্যে থাকতেন ভাড়া বাসায়। এলাকায় গেলে থাকতেন এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে, অথবা ডাকবাংলোয়। তাঁকে সৎ ও নির্লোভ রাজনীতিবিদ হিসেবে বলছেন এলাকার মানুষ।

মন্ত্রী ছায়েদুল হকের মৃত্যুর পর তাঁর  ভাঙা দুই টিনের ঘর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার ও আলোচিত হচ্ছে।

ভাঙা দুই টিনের ঘরের ছবি ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে শাহ মাহবুব রাজীব লিখেন, বাংলাদেশের একজন মন্ত্রীর বাড়ি এটি। বিশ্বাস হয়? সদ্য প্রয়াত মন্ত্রী ছায়েদুল হকের বাড়ি। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া এ দুটি টিনের ঘরই তার সম্বল ছিল।

শাহআলম সজীব ফেসবুকে লিখেন, যে বাড়িটি দেখছেন সেটা শেখ হাসিনা সরকারের একজন মাননীয় মন্ত্রীর বাড়ি। বলছিলাম সদ্য প্রয়াত মন্ত্রী জনাব ছায়েদুল হকের কথা। কী বিশ্বাস হচ্ছে না, হুম বিশ্বাস না হওয়ারই কথা? কতটা সহজ সরল জীবনযাপনের পাশাপাশি রাজনৈতিক জীবনে ক্ষমতার কাছাকাছি থেকেও লোভ লালসাহীন হলে এমনটা হয় আমরা কেউ কি কল্পনা করতে পারি? এই একটা চিত্রই বলে দেয় জনাব ছায়েদুল হকের বর্ণিল রাজনৈতিক জীবন এবং কতটা ছিলেন মাটি ও মানুষের কাছাকাছি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও জানিয়েছেন ছায়েদুল হকের টিনের ঘরে থাকার তথ্য। ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি ছিলেন মাটি ও মানুষের নেতা। এদেশে অনেকে ‘পাওয়ার’ পেলে তার অপব্যবহার করে, কিন্তু ‘পাওয়ার’ পেয়েও তাকে দুর্নীতি স্পর্শ করতে পারেনি। তার মতো সৎ মানুষ বিরল।
 
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার পূর্বভাগ গ্রামে ছায়েদুল হকের পৈত্রিক বাড়িতে। এলাকায় গেলে তিনি উপজেলায় ডাকবাংলো এবং একজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে থাকতেন।

নাসিরনগর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এটিএম মুনিরুজ্জামান সরকার বলেন, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া পূর্বভাগ গ্রামের দুটি টিনের ঘর ছাড়া ছায়েদুল হকের আর কিছুই নেই, তাও আবার ভাঙা। ১৯৯৬ সালের পর থেকেই তিনি নাসিরনগর ডাকবাংলোতে থাকতেন। মাঝে মাঝে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির রাফি উদ্দিনের বাড়িতেও রাত্রিযাপন করতেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৯ সালে অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি নেওয়ার পর এলএলবি পাস করে আইন পেশায় নিজেকে যুক্ত করেছিলেন ছায়েদুল হক। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে কাজ করে ঢাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। ২০১৪ সালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হওয়ার পর মিন্টো রোডের সরকারি বাসায় ওঠেন তিনি। ছায়েদুল হকের একমাত্র ছেলে এ এস এম রায়হানুল ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রভাষক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে ছায়েদুল হক প্রথম নির্বাচিত হন ১৯৭৩ সালে। এরপর ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর কাছে হেরে যান। ১৯৯৬ সালে আবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন ছায়েদুল হক। ৭৫ বছর বয়সী ছায়েদুল হক গত শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে মারা যান।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.